মুক্তিবাদ
যারা
আমাকে ডিগডিগে
আমার
রুহকে যুদ্ধের হিরো
আমার
ঈশ্বরকে অনিষ্টজনক
আমার
কবিতাকে
চাকচিক্যময়
আভিজাত্য বা বিক্ষিপ্ত প্রলাপ মনে করে
আহ ভাইরে
তারা
বাণিজ্যের অযথার্থ ক্ষমতা দিয়ে
তাদের
নাক মুখ কান দখল করে
এই
শক্তিশালী প্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রের
অস্তিত্ব
রক্ষা করুক
যারা
বালি ফুঁড়ে
আমাকে
বাল্যপাঠ শেখাচ্ছে
আহ ভাইরে
তারা
মেকি সুন্দরের মিথ্যে সীমারেখা প্রত্যাখ্যান করে
অন্তত্ব
একটা ছোটখাটো দেবদূতের সন্ধান করুক
অকেজো
জ্যুকবক্সে স্থির ডিস্ক
জীবনের
আর ভাঙা ইঁটের
অশুভ
যুদ্ধপরা যন্ত্রনায় আন্তর্জাতিক কোরাস
আহ ভাইরে
কবরখানা
আর টাউনশিপের সুড়ঙ্গের মধ্যে গুঞ্জন করা
আস্তাবলের
ধূর্ত পিটপিটে মায়া
মধ্যে
মধ্যে ফ্যাঁকড়া
আহ ভাইরে
কাঁধে
অগ্নিবর্ণের ক্যামেরা
হাতে
অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ট্রানজিস্টর
অন্য
সম্রাটের দায় যাতে মেটে
মাংস ভেদ
করে সচল ফ্রেস্কোর মত
এইসব
রেডিয়ো-টিভি-অ্যাকটিভ যুবশক্তি
মুক্তিবাদ
এবং জাঁকজমক খুঁড়ে নৈশস্তব্ধতা
আহ ভাইরে
সাক্ষ্য
আমার অস্তিত্বের কেন একটা অজ্ঞাত উদ্দেশ্য আছে-আমি জানি না
আমার তুষারশুভ্র হাত আমাকে এগিয়ে দিয়ে
নিজেকে ফুটকি রঙের
সাহায্যে প্রকাশ করে
আমি থাকি
তার যন্ত্রপাতির ও তার রত্নভরা শরীরের টূকরো টাকরার মাঝে
নির্দিষ্ট
আমি, অদ্বিতীয় শান্ত, মানুষকে বোঝাই দর্শনীয়ভাবে উর্ধ্বে যেতে ও
নীলরঙের
সন্ধ্যায় ছদ্মবেশে ঘুরি এক জাজ্জ্বল্যমান মূহূর্তকে প্রতিষ্ঠা
করার
জন্যে আমার ঘৃষ্ট স্বরঃ আমি নগরের কোথা থেকে আসছি?
আমাকে কি
ঈশ্বরের নিঃসঙ্গতার উপায়সমূহ উপহার দেওয়া যায়? আমার
শীতল
স্থাপত্য কাঠামো সম্পর্কে কি কিছু করা উচিত? আমি মাথা নাড়ি
আমার
মনঃসংযোগ অস্থিচূর্ণিত বামনমূর্তির
বেশে নয়।
শিকারী পাখির বেশে।
আমি
প্রতীক্ষা করি। আমি সর্বদাই আক্রমন থেকে আত্মরক্ষায় বিস্তৃত
সবুজ
টুপির তলায় আমি মোহিনী দৃশ্য এনে বসাই
ভাঙা
ভাঙা গোঙানি নিয়ে তাকিয়ে থাকি। আমি স্বীকার করি-
আমি
হচ্ছি সেই ধরনের মানুষ যে শুধুমাত্র আবর্জনা দিয়ে যায় না
আমি নদীর
উজানে গিয়ে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে নিই।
আমি ঊষার
অস্পষ্ট আলোতে নিজেকে বিশ্লেষন করি
আমি
বিস্ময়কর সব আভরণ ছাড়িয়ে কাজে নামি
আমি
সিদ্ধান্ত নিই যে আলো আমি সৃষ্টি করি তা হারিয়ে যায় আমি
হিমঘাসে
বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছি, সকলের সামনে কেঁচোর মত গুটিয়ে যাচ্ছি
বস্তুত
শতাব্দীর মৃত আত্মারা উপুড় হয়ে ঝুঁকে পড়ে
হাড়ে
হাড়ে ঠাণ্ডা অনুভব। উঁহু, ও হো
আমি
বৃক্ষের সোনালী গুঁড়ি দিয়ে নিজেকে রূপান্তরিত করি।আমি
বাস্তবিক
ভয়ংকর। গলা আমার আচ্ছাদিত গন্ধক ও ক্লোরিনের ওড়নায়
তবু আগুন
যত্ বেড়ে ওঠে আমিও লুকোতে থাকি
আমি
ব্যাখ্যেয় হেসে পথচলতি লোকের সামনে দুহাত তুলে ধরি
শেষে
তাদের মিলিয়ে দিই গিঁট বেঁধে
শেষতম
কলস্বর আমায় ঠেলতে থাকে।আমার প্রাচীন এই কোলাহলে
সৃষ্টির পরিসরের জড়তা কেটে গিয়ে
অনুপস্থিত লোকেদের ছায়া এসে
পড়বে
আমি সেই
রং পবিত্র গন্ধ যার ভেতর টলে যায়
আমি সেই
ক্ষুদে সূর্য, আমার দুটো ডাকের মধ্যে একটা কথা লা হয়ে যায়
আমি আমার
পান্ডুবর্ণ কানাঘুষার কার্পেট পাতা রাস্তায়
আমার ভবিষ্যৎটাকে ফাটতে
দেখেছি…
সার্টিফিকেটের পাঠ
আমার যে ভাই চায়না সার্টিনের একটা লম্বা আলখাল্লা পড়ত
এবং এক নির্দিষ্ট জায়গায় আমাকে খুব
জমকের সঙ্গে সম্বধর্না জানাত
সে আগুনে পুড়ে গিয়ে মারা গিয়েছে।
আর আমার যে বন্ধু অস্ত্রোপচার বিদ্যায়
ছিল অত্যন্ত কুশলী
এবং যে তরবারি ও তীরপূর্ণ তূনীর নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে
সূর্যকে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল
সে হাজতে পচে শেষে আত্মহত্যা করেছে
আমি বস্তুতঃ এখনও মারা যাইনি
এবং আমার মতলবের কথা ঘুণাক্ষরেও কারও কাছে প্রকাশ করিনি
কারণ এটা প্রকাশ করার মত কথা নয়।
No comments:
Post a Comment