হাংরি আন্দোলন রচনাসংগ্রহ

Thursday, 25 July 2019

নিত্য মালাকার-এর কবিতা

সুধা
মাথার ভেতরে নক্ষত্রখচিত রাত্রি। নাকি কৃষ্ণচূড়া আর বনকলমিদের সংসার বিগ্রহ?

মনে নেই। ঝাঁপি খুললেই বেরিয়ে আসবে। ভয়ে এসব কথা বউকেও বলি না। হাঁটি
আর ঘনশ্যাম ঘাসেদের পায়ে পায়ে দলতে দলতে এক পোর্টিকোয় হাজির। সেখানে এক
বেতের চেয়ার আর বিশুদ্ধ পাপোশ ছাড়া কেউ নেই। মন বলে, কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকা
এক উজ্জ্বল ভোলা ছিল। অন্ধকারে কে কোথায় যে
যায়। কিন্তু বসে ছিল কে? যে স্তব্ধতা- তার কাছেই বলব কি?

ছিটকিনি নড়ে ওঠে, কাছে যাই, কেউ না বিভাষা।

মদ
পোস্টারে শুধু দুটি পা। কাঞ্চনজঙ্ঘা বলব? কারণ ওপরটা নেই। কে জানে হাওয়া
ছিনিয়ে নিয়েছে কি না।

আজ আমার দুঃখের দিন। কল্পনা তাড়িয়ে দিয়েছে পথে, রেস্ত নেই। মাথায় বৃষ্টি, পায়ে
রোদ, কপালে দুঃখ, চিত্তে সুখ, হৃদয়ে নকল ভালভ। এদিকে দু হাতের দশটা আঙুলই
পুড়ে দস্তানা। তবু স্তব্ধবাক, সামনে দাঁড়িয়ে আমিও পা ফাঁক করে দাঁড়ালাম। এখানে
সন্ধ্যার পর লোকজন কখনও হাঁটে না। চড়ব কি ? যদি পড়ে যাই ? শূন্যমন্ডল থেকে
বিপ-বিপ শব্দ আসে। শালা, আমি যেন পড়ালেখা করিনি। ‘দেয়াল ধরো, দেয়াল’। কিন্তু
দেয়াল ধরা মানেই পাঁজাকোলা করা নয়। ‘নাক লাগাও, টানো বুক ভরে।’ –
বিপ, পিঁ-পিঁ। আমি বুঝলাম, পাগলা হাতির মাথা নড়ে। পালা।

কাব্যকথা
বাঁচব কি ? এক লৌহ-ব্যবসায়ীর স্ত্রীর গোড়ালি দেখে তিন মাস হাসলাম। নদীকেও
বললাম। সে আবার গালে লজ্জা পুরে একটু সরে গিয়ে- পাশেই বসে টিভি দেখতে
লাগল; কখনও মাছ, কখনও বঁড়শি। কখনও মানুষ- উত্থানপদ, মাথা দিয়ে হাঁটে। এতে
গর্ভধারণ করার কী আছে বুঝি না। আমি তো গোপন, রাত্রি- এসব বলিনি। বলেছি,
উৎকর্ণ হও। বলিনি আঁখিপল্লব তোলো বা বাহুমূল। এত কী সমস্যা আসে?

অবশ্য এখনও চন্দ্র সূর্য হিমালয় আছে। হয়তো রবীন্দ্রনাথও। তবু প্রশ্ন। হাওয়ায় হারপুন
ও কুড়ুল ভেসে আসে। এই ভুমধ্য শহরে। ধিক, শত ধিক।

রূপকথার পরের কথা
জানি না নটে গাছটি কবে মুড়োবে। জানি না তারও আগে এইসব, এইসব ভণিতা
গল্পগাছা আরও কীভাবে পল্লবিত হবে। শ্রুতিসুখকর একটি স্বপ্নের কথা যখনই ভেবেছি,
ঠিক তখনই এসে ঘিরে ধরেছে, প্রশ্ন করেছে কিছু রাক্ষস- নিরীহ মারীচ। এরা
স্বল্পালোকে বিচরণশীল থেকে মানুষি তালমান বোঝে, পরে সময়মতো থাবা তোলে।
ভালোবাসা- একটু রকমফের, সুবর্ণ কঙ্কণের লোভ।

নিমব্রহ্ম সরস্বতী
দ্যাখো, এইবেলা আমি নিম বিষয়ে ভাবছি। যদিচ, সকলি,
আলো ও শীত-তীব্রতা মিলিয়ে ছাত্রীপাঠ্য সন্দর্ভ কিছু হয়
কিনা নিয়ে তুমুল তোলপাড় হবো ভেবে চির স্ত্রীমুখ দেখে
সংযত, হেসে সুখে রোজকার মতো চূড়ান্ত প্রৌঢ়—চা খাচ্ছি
বেশ।
হাল ধরে বহুক্ষণ,—এরকম কত দিন যে গিয়েছে। গিয়েছে
বিকেল, শুকনো। রাত্রি গিয়েছে। টেনে হিঁচড়ে নিয়ে
যাওয়া ভুক্তাবশিষ্টের মাংস, খাঁড়ি, ভাঁজ ও মোহনাদর্শন
শেষে সাদা সত্য লাভ।—এসব ঘটেছে বহুতর ছলাৎছল
ঘাটের অর্চিষ্মান খাবি বেপথুমতি আপন্নের ঘাটে।
তাই, এইবেলা আমি নিম বিষয়ে বিবিধ উপসর্গ অনুসর্গ
যোগে দেখছি সুখদ ব্রহ্ম, দেখছি সরস্বত্যৈ হ্রীং ক্লীং।

অবিশ্বাস, সন্দেহহেতু

অন্যকে সন্দেহ করবার আগে নিজেকে সন্দেহ করো –

একথা কেউতো বলেছিলেন বটে কিন্তু,আমি চুল ছিঁড়ে
ভুরুসন্ধি ঘেঁটেও তাকে ঠিক মনে করতে পারছি না আদৌ

এতটাই দুঃস্থ পর্যুদস্ত আমি, -  আমার আরোগ্য প্রয়োজন
আমার মনোনিবেশ প্রয়োজন       হোমানলে আত্মনিবেশ
                                                           প্রয়োজন

এইসব তিরস্কার পরামর্শ শুনে আমি অভিভূজ কোণটির
                                আশ্রয়ে নিজেকে বাঁচাই বটে
কিন্তু  অবিশ্বাসবশত তোমাকে গোপনে

অনুসরণ ইচ্ছা আমার কিছুতেই যায় না


সক্রেটিসঃ হেমলক পানের পর

নটে পালং লাল শাক বা শিশু সর্ষে মুলো
এবং গেরস্থের রেস্ত-উপযোগী বাজার ও রাস্তার
হিরু বীরু বেলা কমলাবালা লক্ষ্মী যমুনাবালা
                      অন্নদা মাসিপিসিদের গ্রামের
সোহাগ স্নিগ্ধ হেমন্তের উত্তর শারদীয়া বার্তা
                      সব পেয়েছি বাজারের দেশে-

দেখে স্তম্ভিত নাকি বোবা কালা হয়ে
অবিমৃশ্যকারী,কূপমন্ডুক এবং শিশ্রোদয় প্রিয়-
         সহসা বিবেকজাত টার্মগুলির ঐ মোহঘোর

খুঁজি ও থলেয় ভরি সকল অজর্জিতের সুখমায়া

ঘরে এসে দেখি-হাসছেন যিনি তিনি স্বয়ং
আর কেউ নন আমারই প্রফুল্লনন্দিনী  জ্যানথিপি



শিরোনামহীন

নীরবতার কাছে ইদানীং নিচুমখ হয়ে বসে আছি
এখানে আমরা দুজন ছাড়া মনুষ্যসমাকুলতার
                                            কিছু নেই

আমাদের সময় অখন্ড তবু তারপরও
                            তাকে এক ভেঙে দুই করি

আমরা পরস্পর মৃত ও জীবিত হই
                                আঁধারের পরিসর খুঁজি
আলাপ বিস্তার করি, উড়ি, গাই

                 ডানায় আগুন লাগে, হাসি হো-হো






Posted by মলয় রায়চৌধুরী at 06:09
Email ThisBlogThis!Share to XShare to FacebookShare to Pinterest

No comments:

Post a Comment

Newer Post Older Post Home
Subscribe to: Post Comments (Atom)

হাংরি জেনারেশন সম্পর্কিত প্রামাণ্য গ্রন্হ

হাংরি জেনারেশন সম্পর্কিত প্রামাণ্য গ্রন্হ
Publisher : Prativash, 18A Gobinda Mandal Road, Kolkata - 2, India

The Hungryalists

The Hungryalists
Publisher : Penguin Random House

Translate

Total Pageviews

Blog Archive

  • ►  2023 (26)
    • ►  September (1)
    • ►  August (3)
    • ►  July (10)
    • ►  May (9)
    • ►  March (1)
    • ►  February (1)
    • ►  January (1)
  • ►  2022 (28)
    • ►  December (3)
    • ►  November (1)
    • ►  October (12)
    • ►  September (2)
    • ►  August (6)
    • ►  May (3)
    • ►  January (1)
  • ►  2021 (4)
    • ►  May (3)
    • ►  February (1)
  • ►  2020 (5)
    • ►  October (1)
    • ►  May (3)
    • ►  April (1)
  • ▼  2019 (35)
    • ►  November (1)
    • ►  October (3)
    • ▼  July (31)
      • মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা
      • মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা
      • মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা
      • আলো মিত্র-র কবিতা
      • ত্রিদিব মিত্র-র কবিতা
      • সুবিমল বসাক-এর কবিতা
      • শম্ভু রক্ষিত-এর কবিতা
      • দেবী রায়-এর কবিতা
      • অরুণেশ ঘোষ-এর কবিতা
      • ফালগুনী রায়-এর কবিতা
      • শক্তি চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা
      • উৎপলকুমার বসু-র কবিতা
      • শৈলেশ্বর ঘোষ-এর কবিতা
      • সমীর রায়চৌধুরীর কবিতা
      • বিনয় মজুমদার-এর কবিতা
      • অরুণেশ ঘোষ-এর কবিতা
      • শৈলেশ্বর ঘোষ-এর কবিতা
      • বিনয় মজুমদার-এর কবিতা
      • শম্ভু রক্ষিত-এর কবিতা
      • সুভাষ ঘোষ-এর কবিতা
      • করুণানিধান মুখোপাধ্যায়-এর কবিতা
      • প্রদীপ চৌধুরীর কবিতা
      • উৎপলকুমার বসুর কবিতা
      • নিত্য মালাকার-এর কবিতা
      • সমীর রায়চৌধুরীর কবিতা
      • সুবিমল বসাক-এর কবিতা
      • রাজা সরকার-এর কবিতা
      • ফালগুনী রায়-এর কবিতা
      • অরণি বসু-র কবিতা
      • সমীরণ ঘোষ-এর কবিতা
      • বাসুদেব দাশগুপ্ত : এয়ার কণ্ডিসানড দেবতা
Simple theme. Powered by Blogger.