Saturday, 27 July 2019

মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা

ম্যাক্সিমাম সিটিতে এক পথচারী

১.
রাস্তায় ঘুরে বেড়াই,  আমার লুচ্চা চোখ চলে যায়
ছুকরি উরুর দিকে, মিনির তলায় এতোটা জায়গা ফাঁকা
ওখানে বিজ্ঞাপনকোং দিতে তো পারেন ছাপ্পা
কোক কনডোম তেল চা সাবান  গুঁড়ো মশলার
সহজেই যেদিকে ক্রেতার লোভি চাউনি ঠোকরাবে
২.
জয় শ্রীরাম বলেনি বলে পেটাচ্ছে দাড়ি-সিঁদুর ভিড়
ওহ কি শ্লেষ্মা-কান্না বাঁচবার শেষ চিৎকার
ভাবি, ইমলিতলায় লোকে দেখা হলে নিজেদের
বলতো জয় সীতারাম । পুংটিকি পুতনা-ছোঁড়ারা
সীতাকেই রামায়ণ থেকে ছিঁড়ে বাদ দিয়ে দিলো
৩.
কালকে বিকেলে দেখেছিলুম ম্যানেক্যুইন ল্যাংটো শরীরে
বেগুনি ইজের আর বুকে বাঁধা হলুদ বডিস
সোকেশের শার্শি ভাঙার পর আজকে তার দেহ ঢেকে
পরানো হয়েছে চুড়িদার, তার ওপরে সবুজ ইজের 
বুকে সবুজ বডিস, দু-দুটো বিমারু হুমকি এক সাথে
৪.
জিমে যাই, বিনে পয়সায় স্ট্রেস টেস্ট সেরে নেবো ভেবে
দেখি দুই পালোয়ান তেলালো ছোকরা কোথা থেকে 
পাইথন সাপ এনে ওয়েট-লিফটিঙ করছে কাঁধে তাকে নিয়ে
ম্যাক্সিমাম সিটি নামে খ্যাত গ্যাঞ্জামে কোথা থেকে এলো এ-ময়াল
৫.
বৃষ্টি অঝোরে পড়লেও একপো পটল আলু কিনতে বেরোতেই হয়
হাঁটুজলে ছপছপে চলেছে কলেজের ছোকরা-ছুকরিরা
রাজপথ ট্রেনপথ সবই জলে ডুবে সামনের বন্ধ গাড়িতে
লোকদুটো নাকি মরে পড়ে আছে কাল রাত থেকে
বচসা চলছে দুই পুলিশ দলের মড়া দুটো কার এলাকায়
মৃত্যু যে কি কুত্তা চিজ দুদুটো মড়া তা বুঝেও বোঝেনি
৬.
ট্রেন-বাস কিচ্ছুতে চাপি না শুনি প্রতিদিন ট্রেন থেকে
কয়েকটা মানুষ নিশ্চিত ঝরে মরে আজকে মরেছে হিজড়ে
মেরিন ড্রাইভের ধনীদের অপদস্হ করে টাকা তোলবার ধান্দায়
হিজড়ের লাশ বলে পড়ে আছে সহজে ছোঁবে না কেউ এ-শহরে
ম্যাক্সিমাম সিটিতে শুধু মৃত্যুই খচ্চর প্রাণী সারাক্ষণ বেঁচে
ভালোবাসা মানে নিজেকেই ভালোবাসা প্রেম বিক্রির এ-শহরে 
৭. 
কামড়াবে আঁচ করে জলাতঙ্কের ভয়ে লোহার রড দিয়ে
দশজনের বেশি লোক পিটিয়ে মারছে দেখি রাস্তার কুকুর
বিস্কুট খাওয়াতুম মাঝে-মধ্যে মুরগির চর্বচোষ্য ঠ্যাঙ
শ্লেষ্মা-কান্না নয় মানুষের মতো, কেবল মাংস নাড়িভুঁড়ি রক্ত
ছিৎরে যাবার যন্ত্রণা এই ম্যাক্সিমাম সিটির গূঢ় আর্তনাদ
কুকুর তো জানতে পারে না মৃত্যু যে কি কুত্তা চিজ
৮.
মর্নিঙ ওয়াক করতে সাবওয়ে দিয়ে গেলে শর্টকাট হয়
দেখি পা ফেলার জায়গা নেই রাস্তা সারাবার জন্য মজুরেরা
অন্ধ্র-তেলেঙ্গানা থেকে এসেছে বউ বাচ্চা হাঁড়িকুড়ি নিয়ে
সারারাত কাজ করে তারাই ঘুমোচ্ছে এখন উঠবে দুপুরে 
সবজিঅলাদের ফেলে দেয়া পচাধসা আইটেম রাঁধবে কুড়িয়ে
জলেতে চোবানো রোজ তাজা করা কীটনাশকের সবজি 
পচবেই তা সে ম্যাক্সিমাম সিটি হোক বা পুরোনো নগর
৯.
হাঁটার বালিয়াড়ি নেই সমুদ্র ফিরিয়ে দেয় কয়েক হাজার টন
প্লা্টিকের পাঁক তবু তারই ওপরে বসে বাইরে থেকে আসা মজুরেরা
হাগে ভোরবেলা কাছিম মায়েরা যেখানে বছর তিরিশ আগে
পেড়ে যেতো ডিম আর বাচ্চারা ডানা মেলে ঢেউয়ে দৌড়োতো
লক্ষ ফ্ল্যাট ফাঁকা পড়ে  বিল্ডারের কালোকেল্টে টাকার দৌলতে
আকাশ ছুঁচ্ছে যতো বাড়িগুলো তার চেয়ে বাড়ছে বস্তিবাসী
তারা না থাকলে চাকর-চাকরানি পাবে না ৪০-৫০-তলাউলি
১০.
গেলুম ভিড় দেখে প্লাস্টিকের ঢাকনা খোলা ময়লা গাদায় রাতে
ভ্রূণ ফেলে গিয়েছিল ফুটফুটে মরে পড়ে আছে দমবন্ধ হয়ে
খাবার টঙ্কা নেই কনডোম হরমোন পিল কিনবে কোথ্থেকে
বাচ্চাটার ভাগ্য ভালো অন্তত কুড়িতলা বিল্ডিঙের জঞ্জালে
জায়গা করে দিয়ে গেছে কোনো দয়ালু নাচার ধার্ষণিক 
১১.
কাকের সঙ্গম নাকি দেখতে নেই দিন খারাপ যায়, তাই হলো 
মরেছে উনিশতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে সক্কালবেলা গুজ্জুভায়া
দেনার ধাক্কায় চিৎপাত চোকসি মোদি বিজয় মল্লের মতো
দেশ থেকে কেটে পড়বার প্যাঁচ কষতে পারেনি বেচ্চারা
এতো ভোরে পৌঁছে গেছে যে গুজ্জুরা হুণ্ডি কেটে ধার দিয়েছিল 
মড়াটার খুলিফাটা মুখ দেখে টের পাই জীবনও কতো কুত্তা চিজ

১২
নরক নরক নরক নরক নরক নরক নরক নরক নরক নরক
অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিল বিকল্প নরকে চলে যান অন্তত
চারটে কাঁধ পাবেন আপনার বা বুড়ির গতি করে দেবে তারা
হয়তো কাচের বাক্সে শুয়ে নাকে তুলো গুঁজে যাবেন টোরিয়ামে
এখানে হাসপাতালে ঢুকলেই ছেঁকে ধরবে রক্তচোষা ডাক্তারের দল
মরার পর আর নরকে যাবো না আমরা দুই বুড়ো-বুড়ি
জীবদ্দশায় নরকের ভোগান্তি ভুগে ছাই হয়ে আরব সাগরে গিয়ে
খেলবো শুশুক তিমি ম্যাকারেল মুম্বিলের রঙিন জলসায়








মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা

অবন্তিকার বিশেখুড়োর অ্যালবাম দ্যাখা
বিশেখুড়ো কোতরঙে চলে যাবার সময়ে ট্রাঙ্ক দুটো নিয়ে যাননি,
          চুপচাপ পালিয়েছিলেন, কাকিমাকে নিয়ে
বিশেখুড়োর ছেলেপুলে হয়নি । যাবার সময়ে আকবরের
         আমলের রুপোর টাকাগুলো নিয়ে গিয়েছিলেন।
কোতরঙে গিয়ে কাকিমা ৮০ বছরে বিশেখুড়ো ৯০ বছরে
         মারা যান । ফোটোর অ্যালবাম নিয়ে যাননি কেন !
অবন্তিকা সকালে এসেছিল, বললে, বিশেখুড়োর ট্রাঙ্কের তালা
         ভেঙে দেখা যাক যদি কিছু মোহর থাকে ।
উরিব্বাপ, মহামূল্যবান শাদাকালো অ্যালবামখানা ফেলে গেছেন।
         অবন্তিকা পাতা ওল্টায় আর আমার মুখের দিকে তাকায়;
আমি ওর মুখের দিকে তাকাই, গাল গোলাপি হয়ে উঠছে, কান
         লাল হয়ে উঠছে।
পাতা ওল্টায়, মুখ থমথমে, আমার মুখভঙ্গী লক্ষ্য করে।
         ফোটোগুলো দেখি আর বুকের ভেতরে দামামা  ।
অবন্তিকা ফোটো দ্যাখে, পাতা ওল্টায় আর এক এক করে বলতে
         থাকে : গোয়া, মানে, বত্তিচেলি, টিটিয়ান, ডিউরের,
রুবেন্স, রেমব্রাঁ, মদিগলিয়ানি...। বিখ্যাত নিউড আর্ট ।
         ছোটো কাকির নানা আঙ্গিকে নিউড ফোটো তুলেছেন
বিশেখুড়ো ; শাড়ির আড়ালে দেখিনি তো অসাধারণ ফিগার
         মাংসের প্রতিভা, প্যাথস, আবেগের জটিলতা, যৌনতা ।
অবন্তিকা বলল, তোর ছোটোকাকি এতো সুন্দরী ছিলেন যে
         বিশেখুড়ো লুকিয়ে  ওনার নিউড ফোটো তুলতেন।
সম্পূর্ণ নগ্ন ছোটোকাকি, নিজের ছোটোকাকিকে দেখছি, পুরো
         পোশকহীন, ওনার ধ্রুপদি যৌবনে ।
অবন্তিকার হাত চেপে বললুম, তুই আমার ছোটোকাকির
         সেক্স-অ্যাপিলকে হিংসে করছিস !
অবন্তিকা হঠাৎ আমার ওপর ঝাঁপিয়ে বলে উঠল, কী রে
         নিজের কাকির সেক্স অ্যাপিলেও রেসপন্ড করছিস,
লম্পট বিহারি খোট্টা কোথাকার ! নিজেকে সামলা ।

অবন্তিকার কমপ্লেকসিটি
শ, যে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, অবন্তিকার  প্রেমিক নং ১, ইংলিশ 
          মিডিয়াম স্কুলে পড়বার সময়ে ওর সঙ্গে ইংরেজিতে
          প্রেম করতো ।
শ-এর বাবা জ ( দুই ) ফরাসিদেশ থেকে হটেনটট ভেনাসের যোনি
          কিনে এনেছিলেন ( কথিত আছে )।
জ ( এক ) যিনি অবন্তিকার মেশোমশায়, তা জানতে পারেন, শ-এর
          বাড়ি যেতে বারণ করে দ্যান।
অলোকনন্দা গোস্বামী দোলের দিন রঙ খেলতে চায়নি বলে শিফন
          শাড়ি পরেছিল।
অবন্তিকার খুব ঈর্ষা হল, শিফন শাড়ি দিয়ে অলোকনন্দার মাইয়ের
           খাঁজ দেখা যাচ্ছিল ।
জ ( দুই ) নামকরা পেইনটার, উনি কেবল যুবতীদের খাঁজ আঁকেন,
           কলকাতার কালবৈশাখিতে অনেকের খাঁজে জল চুয়েছিল
অবন্তিকার মনে হতো প্রেম কেবল মাতৃভাষায় সম্ভব, একদিন  
          অ্যানাইস নিনকে লেখা হেনরি মিলারের চিঠি পড়ে বুঝতে 
          পারলো যে শ বই থেকে টুকলিফাই করেছিল ।
ক্লাসটিচার সিসটার ব ( এক ) আয়ারল্যাণ্ডে ফিরে গেলেন, তাঁর
          বদলি টিচার কেরালার, সিসটার আইয়াক্কম ।
জ ( দুই ) কেরালার টিচারকে বাইবেল উপহার দিলেন, যাতে কালচে
         খাঁজ আঁকতে পারেন ।
অবন্তিকা ২নং প্রেমিক খ ( তিন ) এর দিকে ঝুঁকলো, কেননা 
          সে স্কুলে বাংলায় প্রথম হতো আর অবন্তিকার মেসোর
          ওপন হার্ট সার্জারির খরচ দিয়েছে।
প্রতিদান হিসেবে অবন্তিকা খ ( তিন ) কে ব্লাউজে হাত ঢুকিয়ে
          টিপতে অনুমতি দিয়েছিল ( আহা কী আনন্দ )।
মিস্টার শৈলেন বোস মারা গেছেন । মিস্টার অজিত গাঙ্গুলিও।
         অবন্তিকা ওনাদের নাম শোনেনি ।                          
দ ( দুই ) এর দপতরে শ চাকরি করতে গেল ; খ ( তিন ) 
          ইটালির একজন ছাত্রীর সঙ্গে চলে গেল বিদেশে ।
প্রেম সম্পর্কে অনির্বাণের কোনো ধারণা গড়ে ওঠার আগেই র-নামের 
          স্কুল থেকে সে দ-নামের কলেজে ভর্তি হবার পর অবন্তিকা
          যাকে সবাই অবু বলে ডাকতো, পরিচয়ের প্রথম দিনেই বললে
          আমি ডেটিং-ফেটিং করি না।
অনির্বাণ, যে জ ( দুই ) এর জারজ ছেলে, উত্তরে বলেছিল, আমিও
          ফাকিং-সাকিং করি না । বেচারা ন্যাড়া বোষ্টম হয়ে গেল।
“মেয়েদের মাসিক প্রকাশ করা উচিত নয়”, সাইনবোর্ডে লেখা, তলায়
          পেইনটিঙ, জিনস-পরা যুবতীর মাসিক হবার রক্ত লেগে। 
           পত্রিকার নাম ‘আরেত্তেরি ইস কি মা কা আঁখ’ ।
পড়ার পর অবন্তিকা নিজের পাছায় হাত দিয়ে চেক করে নিল। নেই।
          যুবতী সাইনবোর্ড থেকে নেমে জিগ্যেস করল, পাতা ফুঁকবে?
মইনুদ্দিন খানের কাঁধে হাত রেখে জ ( এক ) নির্বাচনে কজন মারা 
          গেছে তা আলোচনা করতে-করতে গেল।
কালবৈশাখির মেঘ একটু একটু করে জমা হচ্ছে, ছাতা আনেননি
          কেরালার টিচার, ওনার খাঁজ অতিপবিত্র, দেখানো যাবে না 
          বৃষ্টির জল তা মানতে বাধ্য নয় ।
শ একদিন জানতে পারলো তার বাবা জ ( দুই ) যাকে হটেনটট
          ভেনাসের যোনি বলে সকলকে ঈর্ষায় পুড়িয়েছেন তা আসলে
          ফরম্যালিনে চোবানো বড়ো বাদুড়
খবরের কাগজে সংবাদটা পড়ে ম, যার সঙ্গে স্নাতকোত্তর পড়ার সময়ে
          অবন্তিকার পরিচয় হবে, নিজেকে বলেছিল কি লজ্জা কি লজ্জা
          মরা বাদুড় দেখেও লিঙ্গোথ্থান হয় ।
অনির্বাণ বোষ্টম হয়ে এক সুন্দরী বোষ্টমীকে ফাঁসিয়েছে, কী কুক্ষণে যে
          লটারির টিকিট কিনেছিল দশ লক্ষ টাকা পেয়ে চুল গজালো।
অবন্তিকা একদিন ম-কে কাফে কফি ডে-তে বললে যে ওর একটা মাই
          কেউ এখনও টেপেনি ।
ম বলেছিল, চিন্তা করিসনি, আমি টিপে দেবো । ম এমনই চরিত্রহীন যে
          তার আগেই শ-এর খুড়তুতো বোনের মাই টেপার অফারের
          সদ্ব্যাবহার করে ফেলল।
খবরের কাগজের উত্তর সম্পাদকীয়তে হটেনটট ভেনাসের আসল যোনি
          আর জ ( দুই )-এর বাদুড় যোনির তুলনা প্রকাশিত হলো।
পেইনটিঙের সমালোচকরা আবিষ্কার করলেন জ ( দুই ) এর খাঁজের 
          তেলরঙগুলো আসলে বাদুড়দের ছবি ।
ম একদিন অবন্তিকাকে প্রস্তাব দিল যে পূর্ণিমার রাতে সেন্ট্রাল পার্কের
          ঘাসে ফুলশয্যা করা যাক ।
ম-এর মা ট ( দশ ) পার্কে সঙ্গমরত দুজন মানুষকে ভাবলেন ভুত আর
          ভুতনির অষ্টাঙ্গদশা, দেখেই দুহাত তুলে দৌড়োলেন ।
ম-এর বড়ো ভাই প ( এক ) মাকে দৌড়ে আসতে দেখে সাপ মারার 
          লাঠি নিয়ে পার্কে ছোটোভাইকে দেখে চটে গেলেন।
ম-এর মা ট ( দশ ) বড়ো ভাই প ( এক ) কে স্তোক দিলেন যে তোকে
          তিনচারটে মেয়ের সঙ্গে একই দিনে বিয়ে দেবো।
ট ( দশ ) এর ছোটোবোন ট ( নয় ) যে জ ( এক )-এর ডিভোর্সি বউ
          তা কেবল অবন্তিকা আর ম জানতো।
ট ( নয় ) ম-কে বললেন, ঘাসে লীলেখেলা করিস কেন রে, হাঁটু ছড়ে
          যাবে, আমার বাড়ির ব্যবহার-না-করা বিছানা তো ছিলই।
ট ( নয় ) এর ব্যবহার-না-করা বিছানায় লিলেখেলা করার সময়ে ম-কে
         অবন্তিকা বললে, তুমি আমার প্রেমিক নং ১৮ ।
ম অবাক হলো যে এর আগে সতেরোজন প্রেমিক কি বিছানার চাদরে
         রক্ত মাখাতে পারেনি !
অবন্তিকা ম-কে জানালো যে জ ( এক ) যিনি ওর মেসোমশায় তিনি 
         এই শহরের ভার্জিনিটি রিপেয়ার বিশেষজ্ঞ ।
শ, যে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, জ ( এক )-এর ভার্জিনিটি রিপেয়ারের 
         হিসেব রাখে, তার কাছ থেকে ম জানতে পারলো যে এই শহরের
         প্রতিটি ভার্জিনের ভার্জিনিটি রিপেয়ার করা ।
জ (এক ) আর জ ( দুই ) দুজনেই তাঁদের স্হাবর-অস্হাবর সম্পত্তি ম
         আর অবন্তিকাকে লিখে দিয়ে গেছেন ।
ম আর অবন্তিকা ছেলে মেয়ে বউ জামাই নাতি নাতনি নিয়ে এখন সুখে
         থাকার চেষ্টা করে অথচ পারে না ।

কারে বোধি কয়
অবন্তিকার পিতৃকুলে কেহ নাই, শৈশবে মরিয়া গেছে মাতা
সংসারত্যাগী পিতা ফেরে নাই
কোথায় গিয়াছে না জানিয়া, কী করিয়া বলেন ফেরে নাই
যাইবে তবে তো ফিরিবে, নৌকায়, ট্রাকে, ট্রেনে, পদব্রজে
পাশে কি যশোধরা নাম্নী স্ত্রী ও সন্তান ছিল
নাকি কাটিয়া পড়িয়াছে কপিলাবস্তুর রাজপুত্রের পিছু
বোধিলাভ ঘটিয়া থাকিবে, হয়তো তিনি জানিতেন
বোধিলাভে আধুনিক জীবনে কোনো লাভ নাই
কিন্তু এও মহা বিড়ম্বনা
বোধিলাভ হইয়াছে কি না, এবং হইয়া থাকিলে
ঢক্কানিনাদসহ জনেজনে প্রচার করার প্রয়োজন
আমরা কি জানি ফুটপাথে দড়িদঙ্কা পড়ে থাকা ভিখারিনী
বোধিপ্রাপ্তির পর পথপার্শে শুইয়া রহিয়াছে
মিউনিসিপালিটির ডোম বুঝিবে কেমনে ? ভিখারিনী
মহাপরিনির্বাণের পর পঞ্চভুতে বিলীন হইতে চাহে নাই !
কিংবা মর্গে রাখা বেওয়ারিশ লাশ যার দেহ বিক্রয়ের জন্য
ডোম ও ডাক্তার দরাদরি করিতেছে
ডাক্তারি শিক্ষার জন্য কঙ্কাল দুষ্প্রাপ্য আজ
হয়তো কোনো ডাক্তারি কলেজে পিতা অবন্তিকার
দণ্ডায়মান কাঠের বেদিতে শ্বেতশুভ্র কঙ্কালরুপে
অবন্তিকা শুনিয়া কহিল, ছ্যাঃ, এখন সেদিন আর নাই
বোধিপ্রাপ্তির মতো মানুষ পয়দা হয় না আর
এখন কেবল সঙ বহুরুপি দলদাস চশমখোরের সমাবেশ
ফর ঠিকেদার অফ ঠিকেদার বাই ঠিকেদার মহাবোধি
বিপ্লবের ভানসহ গদি দখল করে, কোতল উৎসবে মাতে
কেহ বলে পলাইয়া গিয়াছে বাপ, নকশাল দলে
কেহ বলে মৃত, নকশাল দলে মাথায় গামছা বাঁধা
ধরা পড়িয়াছে, কাঁধে সাতচল্লিশ রাইফেল
অগুস্তো পিনোশের সেনা চিলিতে লোপাট করিয়াছে
জেসি ইভান্সের ন্যায় গুড ব্যাড আগলি ফিল্মের
গুড লোকটির মতো স্বর্ণমুদ্রাসহ হারায়ে গিয়াছে
অথবা স্পার্টাকাসের দলে যোগ দিয়াছিল পিতাবাবু
আরজেনটিনার নোংরা যুদ্ধ লড়তে গিয়েছিল নাকি
মেশিনগানের আবিষ্কর্তার মতো নাম পালটায়ে
হিরাম ম্যাক্সিম নামে ফিরিয়াছে, কিন্তু গৃহে ফেরে নাই
আওয়ামি লিগের দলে বিএনপি দলে যোগ দিয়াছিল হয়তো বা
কখন কে উঠে চলে গেছে জানতে পারেনি কেউ
১৮৫৭ সালে নানা সাহেবের সঙ্গে ছিলেন কি তিনি
কাকরূপ পাইয়াছে, কিংবা হায়েনার দলবদ্ধ র‌্যালিতে
মাটিতে নোলা সকসকসহ টাটকা রক্তের গন্ধ খোঁজে
হয়তোবা স্ফিংকসের ঢঙে নাসিকাবিহীন দেহে
কোনো মরুপ্রান্তরে পর্যটকের জন্য যুগযু্গ বালুকাশীতল
মালয়েশিয়ার প্লেনে জলের ভিতরে গিয়া লীলা করিতেছে
রঙিন মৎস্যের ঝাঁকে হাঙরের বাঁকে, পেংগুইন দলে !
এভারেস্টগামী দলে তাঁকে দেখা গিয়েছিল, ডেনিম-পতাকা
পাপারাৎজিগন তাঁকে লিপ্সটিকঠুঁটো হাফনগ্ন ফিল্ল্মিনারীর
কোলে আঙুর খাইতে দেখিয়াছে, কালো আর সবুজাভ
কতো কতো কোলাহল সহ্য করিয়াছে অবন্তিকা
নিরুদ্দেশ পিতার উদ্দেশে
পাড়াপ্রতিবেশীদের মুখগুলি চিরতরে বন্ধ করিবার জন্য
অবন্তিকা গয়ায় শ্রাদ্ধশান্তি করিয়াছে
কহিয়াছে যাইতে দিন, অমন বাপের জন্য শ্রাদ্ধই যথেষ্ট
আমি বলি, যাহা হউক, উনি পিতা, জন্ম দিয়াছেন
আই মিন জন্ম দিতে ওনারও ভূমিকা ছিল
আমি ওর মাতুলালয়েতে যাই, মাউন্ট রোডে, বিশাল বাগানঘেরা
কুকুরের ঘেউ-ঘেউ মুখরিত, বারান্দায় যে বৃদ্ধ ইংরেজি
সংবাদপত্রে নাসিকা ঠেকাইয়া খবরের দুর্গন্ধ আহরণ করিতেছিলেন
তাঁহাকে আত্মপরিচয় দিই; তিনি, হাস্যমুখে আমার পিতা ও
পিতামহ কোথাকার, ঘটি না বাঙাল,
জানিবার পর, কহিলেন, ইলিশ খাই নাই কতোকাল,
জল পান করিবে কি ? স্টেনলেস স্টিলের গেলাসে আপত্তি নাই তো ?
আজকাল পিতলের যুগ নাই, আমাদের কালে ছিল, পুরাতন হইয়া গেলে
চারশো টাকায় কিলো, ব্যবহৃত স্টেনলেস  কেহই কেনে না
ব্যবহার করো আর ত্যাগ করে চলে যাও
কি যে ছিরি আজকালকার প্রেমে, একজন থেকে আরেকে
ছেড়ে যদি চলে গেলি, বোধিপ্রাপ্ত হলি ? বোধিপ্রাপ্ত হলি যদি
চেলা সংগ্রহ করে মঠ খুলে নিজের মূর্তি বসালি ?
বৃদ্ধকে আমি বলি, বিবাহ প্রস্তাব লইয়া আসিয়াছি
সে বিষয়ে আলাপ করিতে চাই, উনি জিজ্ঞাসেন, মাঠেতে বসিয়া
চিনাবাদাম খাইয়াছ ? সিনেমা দেখিয়াছ দুইজনে ? রেস্তরাঁয়
হাসাহাসি করিয়াছ ? কফিহাউসে লইয়া গিয়াছিলে ?
অবন্তিকার মামা দুই হাতে চেনে বাঁধা দুইটি কুকুর সহ
ঠোঁটে চুরুটের ধোঁয়া, প্রবেশ করিয়া বলিলেন,
ও তুমিই বিবাহপ্রার্থী ! শুনিয়াছি, ভালোই রোজগারপাতি ;
অভিভাককে বলি, রোয়াব প্রদর্শন করিব বলিয়া
ইংরেজিতে বলি, আপনার ভাগ্নিকে আমি বিবাহ করিব
অবন্তিকার মায়ের মধ্যম ভাই জিজ্ঞাসা করেন
ভাগ্নি ? কোন ভাগ্নির কথা বলিতেছ ?
যাহাকে আমরা দিব অথবা যাহাকে চয়ন করিয়াছ তুমি নিজে !
মনে মনে দুই-চমক ভাবি, অন্যগণকে দেখিয়া লইব নাকি
কে বেশি সুন্দরী ? মাতুল জানিতে চান, প্রেম করিতে্ছ ?
না না না না, প্রেমে পড়িবার আগে বিবাহ সারিয়া লইতে চাই
অযথা সময় নষ্ট করিতে চাহি না
হাহা-হিহি, চিনাবাদাম, চিংড়ি কাটলেট, ময়দানে পা ব্যথা,
ভিক্টোরিয়ায় গিয়ে ছাতার আড়ালে চুমু খাওয়া
ওসব চাই না আমি, জাস্ট বিয়ে করে ফেলতে চাই
দুজনে দুরকম চিন্তার আগে । মাতুল কহেন, রাইফেল কখনও
চালাইয়া পরখ করিয়াছ, এই দ্যাখো, আমার রাইফেল-স্টক
বুলেট, প্রোজেকটাইল, যা চাই চালিয়ে দেখতে পারো
কই দেখি, ওই উড়ন্ত পায়রাগুলির মাঝে একটাকে মারো দেখি ।
রাইফেল লইয়া আমি দুই চোখ বন্ধ করিয়া
ট্রিগার টিপিলাম । কী ফল হইল জানি না, উনি বলিলেন
গুড, ওয়েল ডান, মা-বাবাকে টেলিফোন করে দাও
আগামী সপ্তাহে বরযাত্রীসহ চলে এসো ।
বিবাহসভায় দেখিলাম, জনৈক ভিখারি, বুঝিলাম
বোধিপ্রাপ্ত ইনি, বলিলেন, আমি অবন্তিকার বাবা
তোমাকে আশীর্বাদ করিতে আসিয়াছি
বিগত কয়েকদিন তোমার উপরে নজর রাখিয়া
বুঝিয়াছি উপযুক্ত পাত্র তুমি
সত্যকার যেদিন মরিব সেদিন খবর পাইবে
সেইদিন আরেকবার শ্রাদ্ধ করিও, হ্যাঁ, আরেকবার
অগুস্তো পিনোশের দেশ হইতে অথবা পলপটের মাটি ফুঁড়ে
সমুদ্রের তলদেশ থেকে, স্পার্টাকাসের দল থেকে
নানা সাহেবের দল থেকে, ফিরিয়া আসিব.....