একটি গাণিতিক কবিতা
X, Y ও Z
দুটো ভ্যারিয়েবল X ও Y
X ও Y থেকে তৃতীয় একটি ভ্যারিয়েবল বানাতে চাই
আমরা । তৃতীয় ভ্যারিয়েবল ‘Z’ সহজেই বানানো যায়
ক্যালকুলাসের দ্বারা ।
একমাত্র ঐ ক্যালকুলাসের জন্যই ময়ূরীর সন্তান আরেকটি
ময়ূরীই হয় — ডিম থেকে ময়ূর হয়, তারপরে
‘Z’ হয় । Y আর X
Y ইজ আ ফাংশন অফ X
ঠিক ডিমটাও হয় সেইরকম । ডিমের ভিতরে
‘Y’- ও আছে ‘X’ -ও আছে । সুতরাং ‘Z’ সহজেই
হয় Y নতুবা X -এর মতন হয়ে । ময়ূরীর ডিম
তার ভিতরে ময়ূরীও আছে ময়ূরও আছে ।
সুতরাং ডেরিভেটিভ হয় ময়ূর হবে নয়তো ময়ূরী হবে ।
সত্যব্রত ও আমি
কবি মধুসূদন দত্তের কবিতা :
‘চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে ।
কিন্তু নহি গঞ্জি তেমা, গুরুজন তুমি
পিতৃতুল্য, ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে…’
মধুসূদন দত্ত এই কবিতা লেখার শ-খানেক বছর পরে
মৈমনসিংহের রাজা সত্যব্রত চৌধুরী এবং চণ্ডাল আমি
এক ঘরের ভিতরে দুই বছর ছিলাম — ইডেন হিন্দু হোস্টেলে ।
এইসব আমি ভাবি এবং অবাক হয়ে যাই ।
সত্যব্রত ব্রেকফাস্ট খায় FIRPO হোটেলে ।
এবং বর্তমানে ৭২ বছর বয়সে চা খাই তা সিনেমায়
তুলে নিয়ে গেছে ঢাকার মুসলমানরা । আমি
FIRPO রেস্তোঁরায় একবারই ব্রেকফাস্ট খেয়েছিলাম
সত্যব্রতর সঙ্গে ।
X, Y ও Z
দুটো ভ্যারিয়েবল X ও Y
X ও Y থেকে তৃতীয় একটি ভ্যারিয়েবল বানাতে চাই
আমরা । তৃতীয় ভ্যারিয়েবল ‘Z’ সহজেই বানানো যায়
ক্যালকুলাসের দ্বারা ।
একমাত্র ঐ ক্যালকুলাসের জন্যই ময়ূরীর সন্তান আরেকটি
ময়ূরীই হয় — ডিম থেকে ময়ূর হয়, তারপরে
‘Z’ হয় । Y আর X
Y ইজ আ ফাংশন অফ X
ঠিক ডিমটাও হয় সেইরকম । ডিমের ভিতরে
‘Y’- ও আছে ‘X’ -ও আছে । সুতরাং ‘Z’ সহজেই
হয় Y নতুবা X -এর মতন হয়ে । ময়ূরীর ডিম
তার ভিতরে ময়ূরীও আছে ময়ূরও আছে ।
সুতরাং ডেরিভেটিভ হয় ময়ূর হবে নয়তো ময়ূরী হবে ।
সত্যব্রত ও আমি
কবি মধুসূদন দত্তের কবিতা :
‘চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে ।
কিন্তু নহি গঞ্জি তেমা, গুরুজন তুমি
পিতৃতুল্য, ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে…’
মধুসূদন দত্ত এই কবিতা লেখার শ-খানেক বছর পরে
মৈমনসিংহের রাজা সত্যব্রত চৌধুরী এবং চণ্ডাল আমি
এক ঘরের ভিতরে দুই বছর ছিলাম — ইডেন হিন্দু হোস্টেলে ।
এইসব আমি ভাবি এবং অবাক হয়ে যাই ।
সত্যব্রত ব্রেকফাস্ট খায় FIRPO হোটেলে ।
এবং বর্তমানে ৭২ বছর বয়সে চা খাই তা সিনেমায়
তুলে নিয়ে গেছে ঢাকার মুসলমানরা । আমি
FIRPO রেস্তোঁরায় একবারই ব্রেকফাস্ট খেয়েছিলাম
সত্যব্রতর সঙ্গে ।
আর যদি নাই আসো
আর যদি নাই আসো,ফুটন্ত জলের নভোচারী
বাষ্পের সহিত যদি বাতাসের মতো না-ই মেশো,
সেও এক অভিজ্ঞতা ; অগণন কুসুমের দেশে
নীল বা নীলাভবর্ণ গোলাপের অভাবের মতো
তোমার অভাব বুঝি ; কে জানে হয়তো অবশেষে
বিগলিত হতে পারো ; আশ্চর্য দর্শনবহু আছে
নিজের চুলের মৃদু ঘ্রাণের মতন তোমাকেও
হয়তো পাইনা আমি, পূর্ণিমার তিথিতেও দেখি
অস্ফুট লজ্জায় ম্লান ক্ষীণ চন্দ্রকলা উঠে থাকে,
গ্রহণ হবার ফলে, এরূপ দর্শন বহু আছে ।
বাষ্পের সহিত যদি বাতাসের মতো না-ই মেশো,
সেও এক অভিজ্ঞতা ; অগণন কুসুমের দেশে
নীল বা নীলাভবর্ণ গোলাপের অভাবের মতো
তোমার অভাব বুঝি ; কে জানে হয়তো অবশেষে
বিগলিত হতে পারো ; আশ্চর্য দর্শনবহু আছে
নিজের চুলের মৃদু ঘ্রাণের মতন তোমাকেও
হয়তো পাইনা আমি, পূর্ণিমার তিথিতেও দেখি
অস্ফুট লজ্জায় ম্লান ক্ষীণ চন্দ্রকলা উঠে থাকে,
গ্রহণ হবার ফলে, এরূপ দর্শন বহু আছে ।
ফিরে এসো, চাকা-৫৫
হৃদয়, নিঃশব্দে বাজো; তারকা, কুসুম, অঙ্গুরীয়—
এদের কখনো আরো সরব সংগীত শোনাবো না।
বধির স্বস্থানে আছে; অথবা নিজের রূপে ভুলে
প্রেমিকের তৃষ্ণা দ্যাখে, পৃথিবীর বিপণিতে থেকে।
কবিতা লিখেছি কবে, দু-জনে চকিত চেতনায়।
অবশেষে ফুল ঝ’রে, অশ্রু ঝ’রে আছে শুধু সুর।
কবিতা বা গান… ভাবি, পাখিরা— কোকিল গান গায়
নিজের নিষ্কৃতি পেয়ে, পৃথিবীর কথা সে ভাবে না।
এদের কখনো আরো সরব সংগীত শোনাবো না।
বধির স্বস্থানে আছে; অথবা নিজের রূপে ভুলে
প্রেমিকের তৃষ্ণা দ্যাখে, পৃথিবীর বিপণিতে থেকে।
কবিতা লিখেছি কবে, দু-জনে চকিত চেতনায়।
অবশেষে ফুল ঝ’রে, অশ্রু ঝ’রে আছে শুধু সুর।
কবিতা বা গান… ভাবি, পাখিরা— কোকিল গান গায়
নিজের নিষ্কৃতি পেয়ে, পৃথিবীর কথা সে ভাবে না।
২২ জুন, ১৯৬২-ফিরে এসো,চাকা
যাক, তবে জ’লে যাক, জলস্তম্ভ, ছেঁড়া ঘা হৃদয়।
সব শান্তি দূরে থাক, সব তৃপ্তি, সব ভুলে যাই।
শুধু তার যন্ত্রণায় ভ’রে থাক হৃদয় শরীর।
তার তরণির মতো দীর্ঘ চোখে ছিলো সাগরের
গভীর আহ্বান, ছায়া, মেঘ, ঝঞ্ঝা, আকাশ, বাতাস।
কাঁটার আঘাতদায়ী কুসুমের স্মৃতির মতন
দীর্ঘস্থায়ী তার চিন্তা; প্রথম মিলনকালে ছেঁড়া
ত্বকের জ্বালার মতো গোপন, মধুর এ-বেদনা।
যাক, সব জ্ব’লে যাক, জলস্তম্ভ, ছেঁড়া ঘা হৃদয়।
এই এক
এই এক গুপ্ত রোগ পৃথিবীর সবার হয়েছে ।
যদিও গোপন খুব, তবুও সংবাদপত্রে মাঝে-মাঝে ছাপে —
এসব রোগের কথা নিক্তি অনুসারে
ছাপা হয়ে যায় দেখি । আড়াই হাজার বছর
আগের ডাক্তার বুদ্ধ কিছু কিছু ওষুধ বলেছে–
সে-সব ওষুধে কিন্তু মায়ামৃত সুফল ফলেনি ।
আরেক ডাক্তার ছিল হজরত মোহম্মদ, তার
কথামতো ওঠে বসে রোগীগণ, তবু
রোগ তো সারে না, আরো বেড়ে যায়, দেখি
সীমান্তেও গুলিগোলা অল্প স্বল্প বিনিময় হয় ।
সব শান্তি দূরে থাক, সব তৃপ্তি, সব ভুলে যাই।
শুধু তার যন্ত্রণায় ভ’রে থাক হৃদয় শরীর।
তার তরণির মতো দীর্ঘ চোখে ছিলো সাগরের
গভীর আহ্বান, ছায়া, মেঘ, ঝঞ্ঝা, আকাশ, বাতাস।
কাঁটার আঘাতদায়ী কুসুমের স্মৃতির মতন
দীর্ঘস্থায়ী তার চিন্তা; প্রথম মিলনকালে ছেঁড়া
ত্বকের জ্বালার মতো গোপন, মধুর এ-বেদনা।
যাক, সব জ্ব’লে যাক, জলস্তম্ভ, ছেঁড়া ঘা হৃদয়।
এই এক
এই এক গুপ্ত রোগ পৃথিবীর সবার হয়েছে ।
যদিও গোপন খুব, তবুও সংবাদপত্রে মাঝে-মাঝে ছাপে —
এসব রোগের কথা নিক্তি অনুসারে
ছাপা হয়ে যায় দেখি । আড়াই হাজার বছর
আগের ডাক্তার বুদ্ধ কিছু কিছু ওষুধ বলেছে–
সে-সব ওষুধে কিন্তু মায়ামৃত সুফল ফলেনি ।
আরেক ডাক্তার ছিল হজরত মোহম্মদ, তার
কথামতো ওঠে বসে রোগীগণ, তবু
রোগ তো সারে না, আরো বেড়ে যায়, দেখি
সীমান্তেও গুলিগোলা অল্প স্বল্প বিনিময় হয় ।
No comments:
Post a Comment