হাংরি আন্দোলন রচনাসংগ্রহ

Thursday, 25 July 2019

শৈলেশ্বর ঘোষ-এর কবিতা

পুরোনো মাংসের মত

-১-
এখান থেকে আমি আর কারও মৃত্যুর নিরঙ্কুশ শব্দ শুনতে পাব না
এখনও একইভাবে এখানে ঝরে যায় জল- জাহাজ
বিপনী সংকেত আসে যায়,
এ কোন পাড়াতে আমি ঘুরে বেড়াচ্ছি? এসব কিসের শব্দ
ঈশ্বরের পতন না বেশ্যার উচ্চহাসি,
শৈশবের ধূলো আঙ্গুলে উঠে আসছে না
খুনীর আংগুলের মত এ আংগুল নিমিত্ত শরীরে বসে যায়
ধ্বংসের দাগ দেখিয়ে বলে ‘ এই আমার ভালবাসা, কিন্তু
ধ্বংসের যোগ্য আগুন জ্বালাতে পারে না মানুষ, তল্লাট
ভরে কেবল ছিঁড়ে পড়ার শব, ভয়- দুর্ঘটনাময়
রান্নাঘরে গোপনে আমরা পরস্পরের মুখ দেখে নেব
চোখের কোনে জলের দাগ থাকলে মুছে নেব, চোখে
ক্রুরতা থাকলে সে কার্যক্রমও শেষ করে নেব, পুরানো
মাংসের মত বেদনা ঢেকে রেখে তারিফ করে যাব পরস্পরের
এ কবিতা মুছে দিতে পারে না ৩০ বছর আমার –ফিরে
দিতে পারে না নষ্ট সামগ্রী, আমি চাইনা শুধু দুঃখের
ভাষায় জীবন বলে যেতে, মিলনের বিছানায় বিচ্ছেদের
গান আমি শোনাতে চাই না, আমরা তো বিছানা পেতে
দিয়ে আত্মগোপন করে থাকি বিচ্ছেদের কান্না শোনার জন্য
যা আমাদের ভালবাসায় তাই সর্বনাশ পরিচ্ছেদ পূর্ণ করে রাখে।

-২-
সশব্দ একা বহুরাত আমাকে বসে থাকতে হয়
কোথাও যুদ্ধের গোলা ফাটে, কংক্রীটের ভিত টলে যায়
জানলা বন্ধ হয় এক এক- মনে হয় কোন স্তব্ধতা আছে
আঘাতেও যার সূচীভেদ হয় না, সেখানেই জন্ম,
জন্মান্তর- মেয়েদের হাতে পুরুষের বীর্যরস,
সহবাসের ঘোরে এক জীবন- এ মঞ্চের পর্দা পড়ে গেছে
হলুদ ঠিকুজির শেষ পাতায় আমাকে শুধু বুড়ো
আংগুলের ছাপ দিতে হবে।

কালো জীবানু

কালো জীবানু কর্কট আয় এই হৃদপিন্ডে বাসা বেধে তোল
যে কালো হাতে আমি স্বপ্ন ও স্ত্রীলোক নিয়ে খেলা করেছিলাম
যে কালো স্বপ্ন আমার বুড়ো কুকুরের মত শেষবার চেঁচিয়ে উঠতে
চেয়েছিল, তার পিঠে ঐ কষাঘাত, হাত বুলিয়ে দিচ্ছি, আহারে
আমার সঙ্গে আরেকবার যাবি, বেশ্যারা যেভাবে পা তুলে ঘুমায়
দেখবি, কালো জীবানু কর্কট, আয় এই শরীরে তোর দুর্গ কার্যকারী
গলা দিয়ে সকালবেলা ভাঙ্গা স্বর শুনে চমকে উঠবে সবাই
এবং আশ্বস্ত  হবে কালো মানুষের কালো হাত- এভাবেই
মাখামাখি হয় ভালবাসাবাসি হয় আমাদের, শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
তারই ঋন শোধ করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আমরা-

চিৎ হয়ে পড়ে আছি আমিও, যারা মরে গিয়ে অমর হয় তাদের মত
এবং যেসব হতভাগা চিৎ হয়ে  অপেক্ষা করছে-কেউ কোনদিন
শরীরের বোঝা নামাতে এসে ভয় পেয়ে ফিরে যাবে, কালো
শব্দের গান কালো রক্তের চুইয়ে পড়া- কালো আত্মার শিস শুনে
ওতপ্রোত হবে এরা পরস্পর
কালো জীবানু কর্কট আয়ু আমাদের অঙ্গে ও যৌনাঙ্গে অলঙ্কার
ও, অসুখ, বাঁচাতে শিখিন আমরা শিখিনি পরিজন নিয়ে রাত
কাটাবার গৌরব- তোর গুপ্ত প্রচলন দাম হিসাবে নেবে
জিহ্বা আধখানা, সেদিনও ভগবানের নামে পুনরুত্থান চাই না
বলে দিয়েছিলাম কত গালাগাল, আমৃত্যু অপভ্রংশ বিদ্রোহী
চেয়ে যাবে একফোটা জল? কালো জীবানু কর্কট আয় --

মালিক

জলও আমার নৌকাও আমার, মালিকের কথা ভাবা ভুল
অনেক টানাপোড়েনের ফলে মূর্হুতের জন্য ফুটেছিল ফুল,
অনেক খুঁজেছি তোকে জুলেখা,অনেক ভালবাসা এসেছিল,অনেক বকুল,
মধ্যরাত্রি পার হল- তারাগুলি কথা বলছে, এখনই সময় অনুকূল
এক বোতল ধেনোর প্রভাবে জুলেখা হয়ে যাবে জবাকুসুম
গাঢরাত্রির এই উদ্ভাসনে পেঁচারও পেয়ে যায় ঘুম –
মালিকের ধান কেটে নিয়ে গিয়ে চোর সেজেছে কল্পদ্রুম
জুলেখা যেসব পুরুষের সেবা চায় আমি ছিলাম তাদেরই একজন,
স্তন যোনি অতিক্রম করে আনন্দ পায়ুতে এখন!
বিগ্রহ কাঁদিস না তুই- এই কালো, সে আমারই প্রতিফলন-
হৃদয়ে যে বিস্ফোরন হয়েছিল বহু কোটি বছর পরেও শুনছি তারই অনুরণন!

অস্ত্রের কারখানা পাহারা দেবার জন্য অস্ত্রধারী আছে,
মানুষের রক্ত দিয়েই মানুষ ফুল ফোটায় ফনীমনসা গাছে,
যেখানেই যাই আমি আমার অমানুষটি লুকিয়ে থাকে ঠিক তার কাছে
বাঁচার জন্য গরীব বাপ জুলেখাকে একদিন দিয়েছিল বেচে,
রাত্রির তপস্যা ব্যর্থ হয়, হারানো আকাশ পাখি এখনও চলেছে খুঁজে।

জুলেখা যখন খুন হয় তখন একমাত্র আমাকেই ছিল তার প্রয়োজন
আমার সবকটি স্নায়ু উত্তেজিত হয়- হিম ঠোঁটে দিলাম যখন শেষ চুম্বন!
কোন পারেই পৌঁছবে না নৌকা, দুপারেই দাঁড়িয়ে আছে বহু লোকজন,
এখন জলের মালিক এক ব্যক্তি – নৌকার মালিক অন্য একজন !

মুক্তি

গুরু শিষ্যকে বললেন, ঈশ্বর দর্শণ যদি করতে চাস তবে গুহ্যদ্বার
দিয়ে ঢুকে যা আমার ভিতর –
গুরুর গুহ্যদ্বার দিয়ে ঢুকে পড়ল শিষ্য, মহাস্থানগুলি কালো
একটি মাত্র আলোর রেখা ধরে পৌঁছাল হৃদপিণ্ডের কাছাকাছি,
বেরিয়ে এল তাড়াতাড়ি- শ্বাসরোধ হয়েছিল তার-
গুরু জানতে চাইলেন, কি দেখলি?
শিষ্য বলল, দেখলাম তোমার হৃদপিণ্ডের শিকলে বাঁধা আছি আমি।
গুরু জানতে চাইলেন , আর?
শিষ্য বলল, মেয়েরা সব ন্যাংটো, তাদের দালালরা গান গাইছে ভালবাসার-
গুরু হো হো করে হেসে উঠলেন।
শিষ্য জানতে চাইল, আমাকে ওভাবে বেঁধেছেন কেন?
উচ্চৈস্বরে হেসে উঠে গুরু বললেন, অপরাধীই কেবল ঈশ্বরের কাছে
পৌঁছাতে পারে-তুই অপরাধ কর আমাকে মেরে-
শিষ্য বলল, মুক্তি পাব না, তোমার মৃত্যুর পর আমিও পড়ব ছিঁড়ে।

গুরু বললেন, তবে চল দুজনেই ঈশ্বরের গুহ্যদ্বার দিয়ে ঢুকে পড়ি
দেখি সেখানে যারা বাঁধা পড়ে আছে তারা কে কতটা অপরাধী-
বলে, গুরু শিষ্যের পায়ু দিয়ে ঢুকে গেলেন বললেন, রহস্য দুয়ার
খুলে যাবে আজ, সবটা সহ্য করতে পারিস যদি-
যোনি শিকল পায়ু এবং ধর্ম পার হয়ে শিহরিত শিষ্য বলল,
‘শুনতে পাচ্ছি শিশুর প্রথম ক্রন্দন, আনন্দ মুক্তি নয়, একমাত্র বন্ধন’।
 









মলয় রায়চৌধুরী at 06:32
Share

No comments:

Post a Comment

‹
›
Home
View web version
Powered by Blogger.