হাংরি আন্দোলন রচনাসংগ্রহ

Friday, 26 July 2019

মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা

মাথা কেটে পাঠাচ্ছি যত্ন করে রেখো
মাথা কেটে পাঠাচ্ছি, যত্ন করে রেখো
মুখ দেখে ভালোবেসে বলেছিলে, “চলুন পালাই”
ভিতু বলে সাহস যোগাতে পারিনি সেই দিন, তাই
নিজের মাথা কেটে পাঠালুম, আজকে ভ্যালেনটাইনের দিন
ভালো করে গিফ্টপ্যাক করা আছে, “ভালোবাসি” লেখা কার্ডসহ
সব পাবে যা-যা চেয়েছিলে, ঘাম-লালা-অশ্রুজল, ফাটাফুটো ঠোঁট
তুমি ঝড় তুলেছিলে, বিদ্যুৎ খেলিয়েছিলে, জাহাজ ভাসিয়েছিলে
তার সব চিহ্ণ পাবে কাটা মাথাটায়, চুলে শ্যাম্পু করে পাঠিয়েছি
উলঙ্গ দেখার আতঙ্কে ভুগতে হবে না
গৌড়ীয় লবণাক্ত লিঙ্গ কোনো স্কোপ আর নেই
চোখ খোলা আছে, তোমাকে দেখার জন্য সব সময়, আইড্রপ দিও
গিফ্টপ্যাক আলতো করে খুলো, মুখ হাঁ-করাই আছে
আমার পছন্দের ননভেজ, সন্ধ্যায় সিঙ্গল মল্ট খাওয়াতে ভুলো না
মাথাকে কোলেতে রেখে কথা বোলো, গিটার বাজিয়ে গান গেও
ছ’মাস অন্তর ফেশিয়াল করিয়ে দিও, চন্দনের পাউডার মাখিও
ভোর বেলা উঠে আর ঘুমোতে যাবার আগে চুমু খেও ঠোঁটে
রাত হলে দু’চোখের পাতা বন্ধ করে দিও, জানো তো আলোতে ঘুমোতে পারি না
কানে কানে বোলো আজও উন্মাদের মতো ভালোবাসো
মাথা কেটে পাঠালুম, প্রাপ্তি জানিও, মোবাইল নং কার্ডে লেখা আছে

ডোমনি ডোমনি, তুইই দয়াল, খয়েরি চাউমিন তাপের খোলসে
জিভ দিয়ে পড়ে থাকি, টাকরা মন্দাক্রান্তা ছন্দে কাঁপে
ডোমনি, তুইই দয়াল, চরণ বিভক্ত তোর মধ্যযতি দিয়ে
ঠোঁট চেপে পড়ে থাকি, বানভাসি ঢেউ খেলায় নদী ঢুকে আসে
ডোমনি, তুইই দয়াল, টানপ্রধান অনুষ্টুপ তোর তরল পয়ারে
মুখ দিয়ে পড়ে থাকি শ্বাসযতি শ্বাসাঘাতে ছন্দখেয়ে টলি
ডোমনি, তুইই দয়াল, বুকের স্তবকে রসের স্পর্ধা এনে দিস
নাক দিয়ে পড়ে থাকি হরিণেরা কস্তুরি নাচে চৌপদীলঘু
ডোমনি, তুইই দয়াল, স্বর্ণলতা কোঁকড়া চুলের আয়েসে
কান দিয়ে পড়ে থাকি, বাণের বাকসম্ভোগী ডাক শুনি
ডোমনি, তুইই দয়াল, আদি আলুথালু ক্রৌঞ্চী তোটক তৃণক
গাল রেখে পড়ে থাকি, ত্রিগুণবারি বাকসম্ভোগে ঝরে কামচণ্ডালী
ডোমনি, তুইই দয়াল, চাপল্যছাক্কস দ্রুতছন্দের আদিস্বরে
গোঁফ দিয়ে সুড়সুড়ি দিই তোর কালিকাগহ্বরে, ধামালি দিগক্ষরা ওরে
ডোমনি, তুইই দয়াল, আমি খালিপিলি আকখা বিরামচিহ্ণে থামি
মাথা গুঁজে পড়ে থাকি, অভেদ খুলে যায়, বেরোয় সিঙ্গলমল্ট মধু
ডোমনি, তুইই দয়াল, স্হিতিস্হাপক লঘুদ্রূতি স্বরধ্বনি ওঠে
হাত রেখে পড়ে থাকি, গোলাপরঙ ধরে, তোর মোহন আবসাঁথ উঁকি দেয়
ডোমনি, তুইই দয়াল, অঙ্গটায় সুখ নেই, অঙ্গের চৈতন্যে পুরো সুখ
বুক রেখে পড়ে থাকি, রঙমহলে ঢুকি, রিপুকে দমন করে নদীর রক্তমুখ
ডোমনি, তুইই দয়াল, মন বলতে যা বোঝায় তা ওই দেহযজ্ঞখেলা
উরু তুলে পড়ে থাকি, দেহমাতাল হই, মানবিক দেহযজ্ঞে ফারাক করিনে
ডোমনি, তুইই দয়াল, শরীরে রসের ভিয়েন, কামেই কাম নিবারণ
সারাদিন স্বভাবঘোরে ঠেকায় সুরবাঁধা, গাধার পরজন্ম হয়, আমার তো নেই
ডোমনি, তুইই দয়াল, দেহরস উর্ধগামী করাই সাধনা, অন্ত্যমিলে কোনো মিল নেই
স্হানের অর্চক আমি, ডুবতে চেষ্টা করি, মাংস ছেড়ে প্রেমের স্বদেশ নেই কোনো
ডোমনি, তুইই দয়াল, ফাটলের গান না বেরোলে বহু কষ্টে রাতদিন কাটে
যতো ঝড় সব খামোশ তোর ও-তল্লাটে, চাতক প্রায় অহর্নিশি, চরণদাস আমি
ডোমনি, তুইই দয়াল, লোকলজ্জার ভয় কাটিয়ে দিয়েছিলি সেই ষাটের দশকে
তেকোনা মানবঘর আজব কারখানা, বন্ধুরা শত্রু হল শাঁখ-গেঁড়ি-শামুকের চেলা
ডোমনি, তুইই দয়াল, মলয়দাস ভণে, শুনো গাণ্ডুগণ, কয়লাঅঙ্গ কালোলাল
চাপান-ওতোর চলে, বিরল তিমিরজালে, মশকগৃহিণী বসে শত্রুদের নিতম্বপরে
ডোমনি, তুইই দয়াল, কৌশলে সাড়া দিস, বীজরস শুষে নিস, যেন চোরাবালি
অনল-হিল্লোল-ধারা, মাথাথুয়ে বর্ত্মফাঁকে, বিচিত্র আলোকোদয়ে চাটি রসমধু
ডোমনি, তুইই দয়াল, অলক্ষ্মী অলকায় যাক, অলক্ষ্মী অমরায় যায় যাক
মাংসের ছটায় মজে, কালো পদ্মফুলে সেজে, চটচটে মাত্রাবৃত্তে অন্ধকার হবি
ডোমনি, তুইই দয়াল, ঢুলু-ঢুলু দুই চোখে, ছটফটাস বেওকুফ মাস্তানের ঢঙে
হাঁফাস আর বলে উঠিস, করুক্ষেত্র কোথাকার, ভেতরে ফেলিস না কেন
ডোমনি, তুইই দয়াল, আমি তো বাউলক্ষ্যাপা, ওরে এটাই আসল শিক্ষে
মলয়হাংরি বলেছেন জোয়ার ভাটায় চলে ফেরে সাগর কিন্তু শুকায় না রে
ডোমনি, তুইই দয়াল, কী করিতে কিবা করি, বীর্যে বোঝাই তরি
ছিলুম কোথা এলুম হেথা যাবো কোথায় কার সনে প্রেমের উর্ধলোকে
ডোমনি, তুইই দয়াল, মনের মানুষ বলে কিছু নেই, সবই দেহের মানুষী
আদিশক্তি পরম যুবতী আমার দেহ চালাস তুই মানুষ আড়তরসিক
ডোমনি, তুইই দয়াল, সাধনসঙ্গিনী, বিরল তিমিরজালে ফাঁসালি আমাকে
বাবা বলে কেন ডাকিস, আমার আলজিভ নেই, গানের কন্ঠস্বর নেই
ডোমনি, তুইই দয়াল, তুই কালচেদেহ, ডাগর দু'চোখ, চেরিফল বুক
মা বলে ডাকতে পারি না তোকে, মনে হয় ইনসেসচুয়াস এই বাউলসম্পর্ক
ডোমনি, তুইই দয়াল, আলোজ্বলা এ-সম্পর্ক, ক্ষ্যাপাহাংরি সহ্য করে বেমালুম
মাবুদ মজুদ তুই এই শরীরে থাকিস, তোকেই ভজনা করি আমার কবিতায়
ডোমনি, তুইই দয়াল, মলয়দাস বলে মিছে গণ্ডোগোল ভবে এসে শুনতে পাই
এই যে বীজ বা বীর্য, এর কী আলাদা কিছু আছে ? চাঁদ সবায়ের এক, চাঁদের আলোও
ডোমনি, তুইই দয়াল, মানুষের বীজে হয় না ঘোড়া, ঘোড়ার বীজে হয়না প্রজাপতি
হিন্দু শিয়া-সুন্নি মুসলমান খ্রিস্টান বৌদ্ধ জৈন শিখ আহমেদিয়া ইহুদি অনাস্তিক
ডোমনি, তুইই দয়াল, খাজাবাবা খাজাবাবা মারহাবা মারহাবা, মস্ত কলন্দর ওরে
ইশকের গাঁজা ফুঁকলে হয় রুহ তরতাজা যেন নৌকা চরস টেনে চলেছে মাতাল
ডোমনি, তুইই দয়াল, সুকুমার চৌধুরীকে বল দেখি আশেক হলে মাশুক মিলবে ওর
পড়ে থাকুক জিভ ঠোঁট মুখ গাল বুক ঠ্যাঙ হাত দিয়ে মন্দাক্রান্তা আমিষাশি বীর্যকবিতায়...

আবার আসবো ফিরে
আবার আসবো ফিরে জানি, কিন্তু কোন বাংলায় ?
দুই বাংলাতেই আসবো ফিরে আমি, বুঝলেন জীবনানন্দ
কাক বা কোকিল হয়ে নয়, ঘাস বা কমলালেবু হয়ে নয়
মানুষের হাল-আমল রূপে ফেরবার কোনো আশা নেই
কেননা এখন মানুষের সংজ্ঞা বেশ পালটে গিয়েছে
চাকুরির দৌলতে পশ্চিমবাংলার গ্রাম গঞ্জ শহরতলি
ঘুরে ঘুরে, চাষি তাঁতি জেলে মাঝি ছুতোর কামার
শবর সাঁওতাল মাহাতের দাওয়ায় বসে যেসব দুর্দশার কথা
শুনেছি পঞ্চাশ বছর ধরে, কাটাকাটি, খুনোখুনি
খামার বসতবাড়ি সুখের সংসার পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া
বিরোধ করেছে যারা তাদের গ্রামছাড়া করা
মাটির তলায় সপরিবার জ্যান্ত পুঁতে দেয়া
বুঝলেন জীবনানন্দ, সবই ঘটেছে দেশভাগের বহু পরে
বহু পরে বহু পরে বহু পরে দশ-বিশ বছর তো হবেই
ফেলানি ঝুলেছে কাঁটাতারে, ইলিশ এসেছে লুকিয়ে-চুরিয়ে
এপার ওপার দুই দেশ থেকে কচি কিশোরীদের মুখচাপা দিয়ে
তুলে এনে বিক্রি হয়েছে প্রতিদিন কুমারীত্ব কেনার বাজারে
পরে তারা গোপন জাহাজে পাচার হয়েছে আরবের আরাম হারেমে
তাই আর মানুষের রূপে ফিরতে চাই না আমি
তবু ফিরতে চাই, বুঝলেন জীবনানন্দ, ফিরবোই আমি
বাঙালির মুখের ভাষা হয়ে বেঁচে থাকব চিরকাল এপার-ওপারে

প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার

ওঃ মরে যাব মরে যাব মরে যাব আমার চামড়ার লহমা জ্বলে যাচ্ছে অকাট্য তুরুপে আমি কী কোর্বো কোথায় যাব ওঃ কিছুই ভাল্লাগছে না সাহিত্য-ফাহিত্য লাথি মেরে চলে যাব শুভা শুভা আমাকে তোমার তর্মুজ আঙরাখার ভেতর চলে যেতে দাও চুর্মার অন্ধকারে জাফ্রান মশারির আলুলায়িত ছায়ায় সমস্ত নোঙর তুলে নেবার পর শেষ নোঙর আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে আর আমি পার্ছি না, অজস্র কাঁচ ভেঙে যাচ্ছে কর্টেক্সে আমি জানি শুভা, যোনি মেলে ধরো, শান্তি দাও প্রতিটি শিরা অশ্রুস্রোত বয়ে নিয়ে যাচ্ছে হৃদয়াভিগর্ভে শাশ্বত অসুস্হতায় পচে যাচ্ছে মগজের সংক্রামক স্ফুলিঙ্গ মা, তুমি আমায় কঙ্কালরূপে ভূমিষ্ঠ করলে না কেন ? তাহলে আমি দুকোটি আলোকবষহ ঈশ্বরের পোঁদে চুমো খেতুম কিন্তু কিছুই ভলো লাগছে না আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না একাধিক চুমো খেলে আমার গা গুলোয় ধর্ষণকালে নারীকে ভুলে গিয়ে শিল্পে ফিরে এসেছি কতদিন কবিতার আদিত্যবর্ণা মূত্রাশয়ে এসব কী হচ্ছে জানি না তবু বুকের মধ্যে ঘটে যাচ্ছে অহরহ সব ভেঙে চুরমার করে দেব শালা ছিন্নভিন্ন করে দেব তোমাদের পাঁজরাবদ্ধ উৎসব শুভাকে হিঁচড়ে উঠিয়ে নিয়ে যাব আমার ক্ষুধায় দিতেই হবে শুভাকে ওঃ মলয় কোল্কাতাকে আর্দ্র ও পিচ্ছিল বরাঙ্গের মিছিল মনে হচ্ছে আজ কিন্তু আমাকে নিয়ে আমি কী কোর্বো বুঝতে পার্ছি না আমার স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমাকে মৃত্যুর দিকে যেতে দাও একা আমাকে ধর্ষণ ও মরে যাওয়া শিখে নিতে হয়নি প্রস্রাবের পর শেষ ফোঁটা ঝাড়ার দায়িত্ব আমায় শিখতে হয়নি অন্ধকারে শুভার পাশে গিয়ে শুয়ে পড়া শিখতে হয়নি শিখতে হয়নি নন্দিতার বুকের ওপর শুয়ে ফরাসি চামড়ার ব্যবহার অথচ আমি চেয়েছিলুম আলেয়ার নতুন জবার মতো যোনির সুস্হতা যোনোকেশরে কাঁচের টুকরোর মতন ঘামের সুস্হতা আজ আমি মগজের শরণাপন্ন বিপর্যয়ের দিকে চলে এলুম আমি বুঝতে পার্ছি না কী জন্যে আমি বেঁচে থাকতে চাইছি আমার পূর্বপুরুষ লম্পট সাবর্ণচৌধুরীদের কথা আমি ভাবছি আমাকে নতুন ও ভিন্নতর কিছু কোর্তে হবে শুভার স্তনের ত্বকের মতো বিছানায় শেষবার ঘুমোতে দাও আমায় জন্মমুহূর্তের তীব্রচ্ছটা সূর্যজখম মনে পড়ছে আমি আমার নিজের মৃত্যু দেখে যেতে চাই মলয় রায়চৌধুরীর প্রয়োজন পৃথিবীর ছিল না তোমার তীব্র রূপালি য়ূটেরাসে ঘুমোতে দাও কিছুকাল শুভা শান্তি দাও, শুভা শান্তি দাও তোমার ঋতুস্রাবে ধুয়ে যেতে দাও আমার পাপতাড়িত কঙ্কাল আমাকে তোমার গর্ভে আমারই শুক্র থেকে জন্ম নিতে দাও আমার বাবা-মা আন্য হলেও কি আমি এরকম হতুম ? সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শুক্র থেকে মলয় ওর্ফে আমি হতে পার্তুম ? আমার বাবার অন্য নারীর গর্ভে ঢুকেও কি মলয় হতুম ? শুভা না থাকলে আমিও কি পেশাদার ভদ্রলোক হতুম মৃত ভায়ের মতন ? ওঃ বলুক কেউ এসবের জবাবদিহি করুক শুভা, ওঃ শুভা তোমার সেলোফেন সতীচ্ছদের মধ্যে দিয়ে পৃথিবীটা দেখতে দাও আমায় পুনরায় সবুজ তোশকের ওপর চলে এসো শুভা যেমন ক্যাথোড রশ্মিকে তীক্ষ্ণধী চুম্বকের আঁচ মেরে তুলতে হয় ১৯৫৬ সালের সেই হেস্তনেস্তকারী চিঠি মনে পড়ছে তখন ভাল্লুকের ছাল দিয়ে সাজানো হচ্ছিল তোমার ক্লিটোরিসের আশপাশ পাঁজর নিকুচি করা ঝুরি তখন তোমার স্তনে নামছে হুঁশাহুঁশহীন গাফিলতির বর্ত্মে স্ফীত হয়ে উঠছে নির্বোধ আত্মীয়তা আ আ আ আ আ আ আ আ আ আঃ মরে যাব কিনা বুঝতে পার্ছি না তুল্কালাম হয়ে যাচ্ছে বুকের ভেতরকার সমগ্র অসহায়তায় সব কিছু ভেঙে তছনছ করে দিয়ে যাব শিল্পের জন্যে সক্কোলকে ভেঙে খান-খান করে দোব কবিতার জন্যে আত্মহত্যা ছাড়া স্বাভাবিকতা নেই শুভা
 আমাকে তোমার লাবিয়া ম্যাজোরার স্মরণাতীত অসংযমে প্রবেশ কোর্তে দাও
দুঃখহীন আয়াসের অসম্ভাব্যতায় যেতে দাও বেসামাল হৃদয়বত্তার স্বর্ণসবুজে কেন আমি হারিয়ে যাইনি আমার মায়ের যোনিবর্ত্মে ? কেন আমি পিতার আত্মমৈথুনের পর তাঁর পেচ্ছাপে বয়ে যাইনি ? কেন আমি রজোস্রাবে মিশে যাইনি শ্লেষ্মায় ? অথচ আমার নীচে চিত আধবোজা অবস্হায় আরামগ্রহণকারিণী শুভাকে দেখে ভীষণ কষ্ট হয়েছে আমার এরকম অসহায় চেহারা ফুটিয়েও নারী বিশ্বাসঘাতিনী হয় আজ মনে হয় নারী ও শিল্পের মতো বিশ্বাসঘাতিনী কিছু নেই এখন আমার হি২স্র হৃৎপিণ্ড অসম্ভব মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে মাটি ফুঁড়ে জলের ঘূর্ণি আমার গলা ওব্দি উঠে আসছে আমি মরে যাব ওঃ এসমস্ত কী ঘটছে আমার মধ্যে আমি আমার হাত হাতের চেটো খুঁজে পাচ্ছি না পায়জামায় শুকিয়ে-যাওয়া বীর্য থেকে ডানা মেলছে ৩০০০০০ শিশু উড়ে যাচ্ছে শুভার স্তনমণ্ডলীর দিকে ঝাঁকে-ঝাঁকে ছুঁচ ছুটে যাচ্ছে রক্ত থেকে কবিতায় এখন আমার জেদি ঠ্যাঙের চোরাচালান সেঁদোতে চাইছে হিপ্নোটিক শব্দরাজ্য থেকে ফাঁসানো মৃত্যুভেদী যৌনপর্চুলায় ঘরের প্রত্যেকটা দেয়ালে মার্মুখি আয়না লাগিয়ে আমি দেখছি কয়েকটা ন্যাংটো মলয়কে ছেড়ে দিয়ে তার আপ্রতিষ্ঠিত খেয়োখেয়ি


ডেথ মেটাল

  • মুখপুড়ি অবন্তিকা, চুমু খেয়ে টিশু দিয়ে ঠোঁট পুঁছে নিলি ?
    শ্বাসে ভ্যাপসা চোখের তলায় যুদ্ধ-চিহ্ণ এঁকে ডেথমেটাল মাথা দোলাচ্ছিস
    চামড়া-জ্যাকেট উপচে লালনীল থঙ গলায়  পেতল-বোতাম চোকার
    ঝাপটাচ্ছিস সেকুইন গ্ল্যাম রকার খোলাচুল কোমরে বুলেট বেল্ট
    বেশ বুঝতে পারছি তোকে গান ভর করেছে যেন লুঠের খেলা
    স্ক্রিমিং আর চেঁচানি-গান তোর কার জন্য কিলিউ কিলিউ কিল
    ইউ, লাভিউ লাভিউ লাভ ইউ, কাঁসার ব্যাজ-পিন কব্জিবেল্ট
    কুঁচকিতে হাত চাপড়ে আগুনের মধুর কথা বলছিস বারবার
    আমি তো বোলতি-বন্ধ থ, তুই কি কালচে ত্বকের সেই বাঙালি মেয়েটা ?
    কোথায় লুকোলি হ্যাঁরে কৈশোরের ভিজেচুল রবীন্দ্রনাথের স্বরলিপি
    কবে থেকে নব্বুই নাকি শূন্য দশকে ঘটল তোর এই পালটি-রূপ !
    পাইরেট বুট-পা দুদিকে রেখে ঝাবড়াচুলে হেড ব্যাং হেড ব্যাং হেড ব্যাং
    ঝাঁকাচ্ছিস রঙিন পাথরমালা বুকের খাঁজেতে কাঁকড়া এঁকে
    পাগলের অদৃশ্য মুকুট পরে দানব-ব্লেড বেজ গিটারে গাইছিস
    বোলাও যেখানে চাই নেশা দাও প্রেম-জন্তুকে অ্যানথ্র্যাক্স বিষে
    মেরে ফ্যালো মেরে ফ্যালো মেরে ফ্যালো কিল হিম কিল হিম কিল
    কিন্তু কাকে বলছিস তুই বাহুতে করোটি উলকি : আমাকে ?
    নাকি আমাদের সবাইকে যারা তোকে লাই দিয়ে ঝড়েতে তুলেছে ?
    যে-আলো দুঃস্বপ্নের আনন্দ ভেঙে জলের ফোঁটাকে চেরে
    জাপটে ধরছিস তার ধাতব বুকের তাপ মাইকে নিংড়ে তুলে
    ড্রামবিটে লুকোনো আগুনে শীতে পুড়ছিস পোড়াচ্ছিস
    দেয়াল-পাঁজিতে লিখে গিয়েছিলি ফেরারি জারজ লোক
    ভাঙাচোরা ফাটাবাক্যে লালা-শ্বাস ভাষার ভেতরে দীপ্ত
    নিজেরই লেখা গানে মার্টিনা অ্যাসটর নাকি 'চরমশত্রু' দলে
    অ্যানজেলা গস কিংবা 'নাইটউইশ'-এর টারজা টুরম্যান
    লিটা ফোর্ড, মরগ্যান ল্যানডার, অ্যামি লি'র বাঙালি বিচ্ছু তুই
    লাল নীল বেগুনি লেজার-আলো ঘুরে-ঘুরে বলেই চলেছে
    তোরই প্রেমিককে কিল হিম লাভ হিম কিল হিম লাভ হিম লাভ
    হিম আর ঝাঁকাচ্ছিস ঝাবড়া বাদামি চুল দোলাচ্ছিস উন্মত্ত দুহাত..

    টাপোরি

    আমি যে-কিনা পালটিমারা তিতিরের ছররা-খাওয়া আকাশে
    জলে-ডোবা ফানুসপেট মোষের শিং থেকে জন্মেছিলুম
    অলসচোখ দুপুরে পুঁতি-ঝলমলে নিমগাছটার তলায়
    থাবা-তুলতুলে আদর খাচ্ছিলুম ভুরু-ফুরফুরে শ্যামাঙ্গী গৌরীর
    হাত-খোঁপায় গোঁজা বৃষ্টির কাছে নতশির স্বর্ণচাঁপার কোলে
    আমি যে-কিন গ্রিল-বসানো সকালমেঠো দিগন্তে দাঁড়িয়ে
    মাড়ানো ঘাসের পদচিহ্ণ আঁকা শোকাচ্ছন্ন রোদের সোঁদাভূমিতে
    শেষ গড়াগড়ির বিছানায় কাঠকীটের রাতঘ্যাঙোর শুনেছি
    ভাবছিলুম উদ্দেশ্য প্রণোদিত হলেই খারাপ হতে যাবে কেন রে
    পদ অলঙ্কৃত-করা গতরের ঘামে কি খাটুনির লবণকলা নেই
    আমি যে-কিনা ডাহুককে জিগ্যেস করেছি প্রজাপতির ডানায় কী স্বাদ পাস
    কানপটিতে খুরধ্বনি সেঁটে চিপকো খেলার তেজবরে কনের আদলে
    জাহাজ-এড়ানো লাইটহাউসের আলোয় এক করাতদেঁতো হাঙর
    যামিনী রায়ের আঁকা স্তনের কেরানির সঙ্গে মহাকরণের খাঁচালিফটে
    হেঁকেছিলুম আরোহী-ফেলা পুং ঘোড়ার লাগামছেঁড়া হ্রেষা
    আমি যে-কিনা উচ্চিংড়ের স্বরলিপিতে গাওয়া ফুসফাসুরে গান
    বেড়াজালের হাজার যোনি মেলে ধরে রেখেছি ইলশে-ঝাঁকের বর্ণালী
    স্বদেশি আন্দোলনের লাশঝোলা স্মৃতির গাবগাছের পাশের ঝোপে
    শুকপোকায় কুরে-খাওয়া লেবুপাতার পারফিউমড কিনার বরাবর
    পাথরকুচি কারখানা-মালিকের ঘাড়কামানো পাহাড় থেকে উড়ছি







মলয় রায়চৌধুরী at 04:44
Share

No comments:

Post a Comment

‹
›
Home
View web version
Powered by Blogger.