হাংরি আন্দোলন রচনাসংগ্রহ

Thursday, 25 July 2019

সমীর রায়চৌধুরীর কবিতা







এই কবিতার সম্ভাব্য শিরোনাম
লোমশ মুনির গল্প
চিত্রলেখার সখীসংবাদ
বাণরাজার মেয়ের রূপকথা
বিষ্ণুপুরাণের আনলিমিটেড সেক্সস্টোরি
সেভেন ও ক্লকের অ্যাড স্নিপেট
একটি উদারবাদী কবিতা

‘সেভেন-ও-ক্লক’-এ ঠিক সাতসকালে নিয়মিত দাড়িকামানোর কথা
অবশ্য সেভেন-ও-ক্লক কি জানে কেন ঊষা সাতরকমের
মুশকিল এই যে চলে আসতে পারে ঊষা-ফ্যান কিংবা ঊষা মঙ্গেশকরের হালফিল
অথচ প্রয়োজন ছিল চিত্রলেখার আঁকা অনিরুদ্ধদের সেই ফ্রি হ্যান্ড স্কেচের
যেদিন ছটা বত্রিশে সেফটিরেজর রেডি হয়ে যায় সেদিন গালের এখানে-সেখানে
ছেড়ে-যাওয়া খোঁচা-খুচ রেখে দিতে চায় স্মার্টনেসের অভাববোধ
থুতনির কাটা দাগটার কাছে যেখানে দীর্ঘ অতীতের বাঁকা চিহ্ণ খোঁদল হয়ে আছে
একসময় মাসতুতো বোন রিংকুর সঙ্গে সিঁড়ির কোনটায় হুটোপাটি করে খেলতাম
একটি অনুশাসনপ্রিয় বাজারমনস্ক অর্থনীতি-নির্ভর ব্লেডের এসব তো জানার কথা নয়
তার লক্ষ্য হিমাক্স জিলেট উইলকিনসন্স সোর্ড লেজর এবং ভারত
বা সেই সব আলসে ডিপেন্ডিং কনজিউমার যাঁদের জন্য সেভেন-ও-ক্লক থ্রো-অ্যাওয়ে
শেভিংমনস্কতাগুলির মার্কেটস্টাডি সার্ভে-প্রোপোজালমতো শেভিং শ্রেণিসমাজ
নরসুন্দর নাপিত ক্ষৌরকার নাপতে স্নায়য়িতু জাতিগত প্রতিদ্বন্দ্বীদের ফেলে রেখে
সাতটা আটচল্লিশে শেভিং শুরু করলে দেখা যায় ঠোঁটের নিচে খাঁজে
ঝুলপির বাঁদিকে দু-একটি রক্তাক্ত দাগ আফটার-শেভ লোশনের জন্য
প্যারালাল শিফট রাখে, পাস অন করে দেয় এক্সট্রাস্মুদ শেভের জন্য প্রেসনজল
শেভিং-ফোমে পি-টু-রেজার ডবল-অ্যাকশান কার্টিজে—
রিংকুর কথা কিছুতেই যেন না মনে পড়ে, থ্রো-অ্যাওয়ে নসট্যালজিয়া,
শুধু এটুকু বলা যায় যে লোমশ মুনি তীর্থযাত্রায় থাকতেন যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে–
হ্যালো মহেশ চোপরা ইয়োর ডোর-টু-ডোর লেটেস্ট চেকআপ কী বলছে !         

     
হণির ভিতর দিয়ে দেখা যায়
জাহান্নমে যাক গ্রহনক্ষত্রসমূহ ভেঙে পৃথিবীও যাক জাহান্নমে
লাথি মেরে সব ভেঙে চুরমার করে দিলে কাল আমি সহাস্যবদনে
হাততালি দিয়ে মঞ্চে কোনোরূপ গ্লানিহীন নুরেমবার্গের আদালতে
তুড়ি মেরে কাঠগড়া মুঠোয় গুঁড়িয়ে তোমাদেরও পারতাম ভেল্কি সবিস্তারে ।
সৌরমণ্ডলের পথে তছনছ পৃথিবীর অন্ধকার ফেরি আবর্তন
কোনোরূপ রেখাপাত সম্ভব ছিল না গ্রন্হে হৃদয়ে মেধায়
আমার শরীর ঘিরে ইহুদির হিন্দু শিখ মুসলিমের আততায়ী আদর্শের ঘৃণ্য রক্তপাত
আমাকেও জয়োল্লাস দিয়েছিল মূত্রপাতে পোষা রাজনীতি ।
তোমাদের আস্ফালনে বিনয়ী মুখোশ ঘিরে আমার হনির জন্মদিন
আমারই মুখোশ ধরে টান মেরে ছিঁড়ে ফ্যালে আর্ত চিৎকারে–
ধান উৎপন্ন হওয়ার গন্ধ এখন পেয়েছি শুঁকে কৃষকের উর্বর শরীরে
কুমারী মহিলাদের উজ্জ্বল মসৃণ দেহে বহুবার হাত রেখে উত্তরনিশীথে
পরাগ চমকে উঠে স্পর্শ করে নারীর সমগ্র দেহ জুড়ে
আশ্রয় ছড়ানো আছে প্রীত এক ধরণের মিহি রুখু বালি ।
ক্রমে সেই সমস্তই নাভির ভিতরে আনে রুদ্ধ আলোড়ন,
জেগে ওঠে মৃগনাভি, চেয়ারে টেবিলে গ্রন্হে অম্লান মাঠের ভিতরে
ধু-ধু রিক্ত প্রান্তরের দিকে শাবক প্রসব করে রঙিন প্রপাত,
চারিদিক ফলপ্রসূ হয়ে গেছে রাশি-রাশি প্রতিহারী ধান–
মনে হয় বহুক্ষণ মাঠে-মাঠে গড়াগড়ি দিয়ে বিছানায় উঠে আসে নারী
ক্ষুধার্ত শিকড়গুলি ঢেকে যায় নীড় আস্বাদনে ;
তখনই উৎপন্ন হওয়ার গন্ধ জাগে, কৃষকের উর্বর শরীরে
প্লুত আবছা আঁধারে তাই বারংবার মনে হয় পৃথিবীর সহজ সুদিন
ফিরে এলো সুধাশান্তি
আমার হনির জন্য তোমাদের কাছে আমি ঋণী চিরদিন ।

কুকুরের গল্প

একটি টিনের চাদর ঘষটানি থেকে উঠে আসছে একটি কুকুরের আর্ত চিৎকার
আর্ত শব্দের মধ্যে থেকে যাচ্ছে একটি বিপন্ন রেফ
একটি সংঘর্ষের পরিমিত ধ্বনিবাহিকতা
আততায়ী বা অমসৃণ দ্বিতীয়পক্ষের উপস্হিতি
যেভাবে ধাতু সম্পর্কে নিহিত রয়েছে গোলাপের বর্ণসংকেত
কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বেন চিদানন্দ সোম
তিনি যেহেতু সারা জীবন কুকুর পুষেছেন
তাঁর বিশ্বচরাচরের গল্পে সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ায় এক মহাজাগতিক অলৌকিক ছিটকুকুর
সে গল্প চিদানন্দকে পোষ মানায়—
আর্ত শব্দটির প্রতি সমর্থন তুলে নেওয়ার মুহূর্তে
টিনের চাদরের ঘযটানির সংবাদ থেমে যেতে চায়—

দীপক চাইবাসায় কবে এসেছিল মনে আছে
বিটুর যখন প্যারাটাইফয়েড হয়েছিল ঠিক তার পরে,
সেদিন মধুটোলার বাড়িতে গরুটার কালো বাছুর হয়েছিল
প্রেসিডেন্সি কলেজের ড্রাগ খাওয়া ছেলেমেয়েগুলো
ফিরে যাবার পরের রবিবার–
কদিন পরেই ছিল রাসযাত্রা–

সন্দীপনদার বউ ভাইয়ার হাতে বাবার জন্য মাছ পাঠিয়েছিল
বাহাদুরনীর কাছে এক গ্লাস দুধ চেয়েছিল–
জানেন তো সকাল হলে ওর লাগে, তা না হলে
ফ্রেশ হয় না, গরমটা পেটে পড়লে তবে…
ফ্রেশ হলে ওর কথা শুনবেন,
দেখবেন, আপনাদের ভালো লাগবে
সন্দীপনদা হনি-টোটোনদের ছায়া নিয়ে গল্প বলেছিল

তুমি বলেছিলে হিরণ মিত্র ছায়া নিয়ে ছবি আঁকেন…
আরে…মনে পড়ছে, সেদিন ছায়াদির মেয়ে হয়েছিল
                              
             সতেরো বছর পর…
তখন সহায়জীর বাগানে কত রঙের গোলাপ ফুটেছিল







মলয় রায়চৌধুরী at 06:07
Share

No comments:

Post a Comment

‹
›
Home
View web version
Powered by Blogger.