ক্রুর অভিনয়
কোন শীতের রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে আমার যাবার
সময় হবে, পড়ে থাকবে কিছু আধপোড়া সিগারেট
ছাই, ছেঁড়া জামা, অভুক্ত খাবার, ধূসর পাণ্ডুলিপি
ইস্ত্রিবিহীন পাজামা পরে নেব, মনে পড়বে সেই কথা
এ কোন বিদায় নয় কেবল অসমাপ্তের আত্মগোপন
কোন শীতের রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে আমার যাবার
সময় হবে, পড়ে থাকবে কিছু আধপোড়া সিগারেট
ছাই, ছেঁড়া জামা, অভুক্ত খাবার, ধূসর পাণ্ডুলিপি
ইস্ত্রিবিহীন পাজামা পরে নেব, মনে পড়বে সেই কথা
এ কোন বিদায় নয় কেবল অসমাপ্তের আত্মগোপন
যদি আঘাত, তাও আসবে এই বুকে আমার
যদি ভালবাসা তাও জাগবে এই বুকে
যদি ঘৃণা আসে পান করে নেব সব
সকলের সন্দেহ পরীক্ষা করে নেবে শরীর চরাচর
হৃদয়ের শূন্যস্থান এইভাবে পূরণ হয়ে গেলে
ধরা পড়ে যাবে, অস্বীকারের উত্তেজনা ভোগ
করতে দেখে খুন করবে যে সে আমারই বিরোধী
যদি ভালবাসা তাও জাগবে এই বুকে
যদি ঘৃণা আসে পান করে নেব সব
সকলের সন্দেহ পরীক্ষা করে নেবে শরীর চরাচর
হৃদয়ের শূন্যস্থান এইভাবে পূরণ হয়ে গেলে
ধরা পড়ে যাবে, অস্বীকারের উত্তেজনা ভোগ
করতে দেখে খুন করবে যে সে আমারই বিরোধী
শ্বাসরোধকারী নাটক
মনে হচ্ছে এক হাজার বছর অন্ধকারে শুদ্ধ হয়ে জেগে উঠেছি
মনে হচ্ছে এক হাজার নিম্নচাপ সমুদ্র হৃদয় গহ্বরে সম্পদ নিয়ে বসে আছি
কোন মৃত্যু সংবাদ নাই কোন আততায়ীর গুলির শব্দ নাই
শহীদ মিনারের নীচে কাউকে আবার শহীদ করার ষড়যন্ত্র নাই
ক্ষুধার্ত সে কাঁদে না, মাংসের দরবিগলিত ঘাম নাই
মনে হচ্ছে এক হাজার বছর অন্ধকারে আবেদন মাফিক পরিচয়
মঞ্জুর হয়ে গেছে—
আমি দেখেছি অনিচ্ছাকৃত সন্তান হারাবার লোভে এসে খুন হয়ে গেছে মা
ও সন্তান,
পোষা কুকুর হাড় থেকে মাংস পরিষ্কার করে দেবার পর
ডাইনির মেঝের নীচে শুয়ে আছে তারা
আর কিছু তবে ভাবার নেই, পরকাল ও সমাধিস্তূপ—
রাত্রিতে কড়া নাড়ার শব্দ শুনে কানে আঙুল দিয়ে বলতে হচ্ছে না,
‘আস্তে শুনতে পাবে কেউ’
এত সব সত্ত্বেও খুনীর পরিচয় মেলে না— খুনী সেই যে আমাদের বাঁচাতে চায়—
পাহাড়ে ও জঙ্গলে সন্তানের মত বন্দুক রয়েছে পিঠে এবং সন্তানও রয়েছে বন্দুকও রয়েছে ঝুলে—
এবং কোথাও সন্তানের ভবিষ্যৎ বীমা করে খুন করছে তাকে পিতা— হাতিয়ার আমরা ফেলে দিতে পারি না, সন্তানও আমরা ফেলে দিতে পারি না—
চোখের সামনেই কালো হাড় জিরজিরে দেহ দুটি সাদা কাপড়ে ঢেকে গাড়িতে তোলা হয়েছে— তৃতীয়টিও প্রস্তুত, প্রস্তুত আমাদের হৃদয়, কর্মচারী, পুলিশ,
হিন্দু এলাকা ভিখারীমুক্ত করার পরামর্শ যাত্রীরাই দিয়েছে প্রথম— এই কালো বাজারে কাউকেই আর সনাক্ত করতে পারছি না,
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রাকৃতিক কাজকর্ম প্রকাশ্যে সেরে নিতে গিয়ে ধরা পড়া এবং যে যার পায়ু পরিষ্কার করে পুনরায় আত্মসমর্পণের অছিলা খুঁজি—
চোখ তুই দেখেছিস তুই অন্ধ হবি
কান তুই শুনেছিস তুই কালা হয়ে যাবি
মুখ তুই ভক্ষণের ও বমনের, শব্দপাতের ও
শব্দ ধারণের, তুই বোবা হয়ে যাবি—
হাত তুই অস্ত্রের মেহনের এবং লিখনের
তুই হৃদয়স্থান চিনতে পারিস না বলে পঙ্গু হবি
পা তুই ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় কাজ করিস
দুরকম চরিত্রে তুই স্বস্থানে ও পরস্থানে
যাতায়াত করিস, তুই খুলে যাবি—
লিঙ্গ তুই কামনাহীন সহবাসে লুপ্ত হয়ে যাবি
হৃদয় তুই শূন্যতার কাছে গিয়ে নেচে উঠিস
হৃদয়ের কাছে যাবার আগে বিদীর্ণ হবি
অন্ধকারে রয়েছে জ্ঞান— ভালবাসার পাত্রীকে কখনও গণিকারূপেও দেখা যায়
শ্বাসরোধকারী নাটকের শেষ অঙ্কে এই ভাবেই হাততালি পড়ে
এবং যবনিকা পড়ে গেলেও ছায়াদের আর চলে যাবার হুকুম মেলে না !
মনে হচ্ছে এক হাজার বছর অন্ধকারে শুদ্ধ হয়ে জেগে উঠেছি
মনে হচ্ছে এক হাজার নিম্নচাপ সমুদ্র হৃদয় গহ্বরে সম্পদ নিয়ে বসে আছি
কোন মৃত্যু সংবাদ নাই কোন আততায়ীর গুলির শব্দ নাই
শহীদ মিনারের নীচে কাউকে আবার শহীদ করার ষড়যন্ত্র নাই
ক্ষুধার্ত সে কাঁদে না, মাংসের দরবিগলিত ঘাম নাই
মনে হচ্ছে এক হাজার বছর অন্ধকারে আবেদন মাফিক পরিচয়
মঞ্জুর হয়ে গেছে—
আমি দেখেছি অনিচ্ছাকৃত সন্তান হারাবার লোভে এসে খুন হয়ে গেছে মা
ও সন্তান,
পোষা কুকুর হাড় থেকে মাংস পরিষ্কার করে দেবার পর
ডাইনির মেঝের নীচে শুয়ে আছে তারা
আর কিছু তবে ভাবার নেই, পরকাল ও সমাধিস্তূপ—
রাত্রিতে কড়া নাড়ার শব্দ শুনে কানে আঙুল দিয়ে বলতে হচ্ছে না,
‘আস্তে শুনতে পাবে কেউ’
এত সব সত্ত্বেও খুনীর পরিচয় মেলে না— খুনী সেই যে আমাদের বাঁচাতে চায়—
পাহাড়ে ও জঙ্গলে সন্তানের মত বন্দুক রয়েছে পিঠে এবং সন্তানও রয়েছে বন্দুকও রয়েছে ঝুলে—
এবং কোথাও সন্তানের ভবিষ্যৎ বীমা করে খুন করছে তাকে পিতা— হাতিয়ার আমরা ফেলে দিতে পারি না, সন্তানও আমরা ফেলে দিতে পারি না—
চোখের সামনেই কালো হাড় জিরজিরে দেহ দুটি সাদা কাপড়ে ঢেকে গাড়িতে তোলা হয়েছে— তৃতীয়টিও প্রস্তুত, প্রস্তুত আমাদের হৃদয়, কর্মচারী, পুলিশ,
হিন্দু এলাকা ভিখারীমুক্ত করার পরামর্শ যাত্রীরাই দিয়েছে প্রথম— এই কালো বাজারে কাউকেই আর সনাক্ত করতে পারছি না,
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রাকৃতিক কাজকর্ম প্রকাশ্যে সেরে নিতে গিয়ে ধরা পড়া এবং যে যার পায়ু পরিষ্কার করে পুনরায় আত্মসমর্পণের অছিলা খুঁজি—
চোখ তুই দেখেছিস তুই অন্ধ হবি
কান তুই শুনেছিস তুই কালা হয়ে যাবি
মুখ তুই ভক্ষণের ও বমনের, শব্দপাতের ও
শব্দ ধারণের, তুই বোবা হয়ে যাবি—
হাত তুই অস্ত্রের মেহনের এবং লিখনের
তুই হৃদয়স্থান চিনতে পারিস না বলে পঙ্গু হবি
পা তুই ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় কাজ করিস
দুরকম চরিত্রে তুই স্বস্থানে ও পরস্থানে
যাতায়াত করিস, তুই খুলে যাবি—
লিঙ্গ তুই কামনাহীন সহবাসে লুপ্ত হয়ে যাবি
হৃদয় তুই শূন্যতার কাছে গিয়ে নেচে উঠিস
হৃদয়ের কাছে যাবার আগে বিদীর্ণ হবি
অন্ধকারে রয়েছে জ্ঞান— ভালবাসার পাত্রীকে কখনও গণিকারূপেও দেখা যায়
শ্বাসরোধকারী নাটকের শেষ অঙ্কে এই ভাবেই হাততালি পড়ে
এবং যবনিকা পড়ে গেলেও ছায়াদের আর চলে যাবার হুকুম মেলে না !
প্রস্ফুটন
ফুলের স্পষ্টতা নিয়ে ফুটে উঠতে পারি না আমরা
অভিপ্রায়হীন জন্তুর মত হয় না ঘুম, ঘোরাঘুরি করি
শ্মশান, হাসপাতাল, ভাটি, মন্দির ও মেয়েমানুষের ঘরে
ছেঁড়া ন্যাকড়া কানি জড়ো করি, খালি বোতল বাক্সে ভরি
ভালবাসার তোলা তুলতে মানুষ আসছে, পা না পুঁছেই
তারা উঠছে বিছানায়— তবু একা নই আমরা কেউ—
এক বিপ্লবী আর এক বিপ্লবীর হাতে পিস্তল তুলে দেয়
বলে, “যা শ্রেণীশত্রু খুন করে আয়,”— খুনির গলায়
অনিবার্য মুহূর্তে চেপে ধরা হাত ফের ঝুলে পড়ে
মৃত্যু আমাদের কাছে হয়ে পড়ে নিতান্ত এক অনাবশ্যক ঘটনা !
রাত্রির আকাশ থেকে যে শব্দ আসে তা আমাকে বিহবল
করে— আমি গর্ভের ভ্রূণ, আবছায়া, খাদ ও চড়াই
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আমি এক মেয়ের কাছে যাই,
কিন্তু ভাবি— তাকে টাকা আগে দেব না পরে,
‘জুতা বাইরে রেখে আসতে হবে, বিছানায় শিশু
ওর অসুখ করতে পারে !’
একটা কুকুর ঘোরাঘুরি করে দরজার বাইরে
জুতা রেখে ঘরে এলেও মনে হয় ঐ কুকুর সব টের পেয়ে গেছে
জামা খুলে বসার পর মনে হয় ঠিক হয়নি জুতা বাইরে রাখা
শিশুটিকে বলি, “কি রে, তুই কার ভুল,
বড় হয়ে জুতা বাইরে রেখে ঢুকবি কার ঘরে গিয়ে ?”
সংশয় কেটে যায়—
হাসতে হাসতে আমরাই হয়ে যাই ফুল !
ফুলের স্পষ্টতা নিয়ে ফুটে উঠতে পারি না আমরা
অভিপ্রায়হীন জন্তুর মত হয় না ঘুম, ঘোরাঘুরি করি
শ্মশান, হাসপাতাল, ভাটি, মন্দির ও মেয়েমানুষের ঘরে
ছেঁড়া ন্যাকড়া কানি জড়ো করি, খালি বোতল বাক্সে ভরি
ভালবাসার তোলা তুলতে মানুষ আসছে, পা না পুঁছেই
তারা উঠছে বিছানায়— তবু একা নই আমরা কেউ—
এক বিপ্লবী আর এক বিপ্লবীর হাতে পিস্তল তুলে দেয়
বলে, “যা শ্রেণীশত্রু খুন করে আয়,”— খুনির গলায়
অনিবার্য মুহূর্তে চেপে ধরা হাত ফের ঝুলে পড়ে
মৃত্যু আমাদের কাছে হয়ে পড়ে নিতান্ত এক অনাবশ্যক ঘটনা !
রাত্রির আকাশ থেকে যে শব্দ আসে তা আমাকে বিহবল
করে— আমি গর্ভের ভ্রূণ, আবছায়া, খাদ ও চড়াই
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আমি এক মেয়ের কাছে যাই,
কিন্তু ভাবি— তাকে টাকা আগে দেব না পরে,
‘জুতা বাইরে রেখে আসতে হবে, বিছানায় শিশু
ওর অসুখ করতে পারে !’
একটা কুকুর ঘোরাঘুরি করে দরজার বাইরে
জুতা রেখে ঘরে এলেও মনে হয় ঐ কুকুর সব টের পেয়ে গেছে
জামা খুলে বসার পর মনে হয় ঠিক হয়নি জুতা বাইরে রাখা
শিশুটিকে বলি, “কি রে, তুই কার ভুল,
বড় হয়ে জুতা বাইরে রেখে ঢুকবি কার ঘরে গিয়ে ?”
সংশয় কেটে যায়—
হাসতে হাসতে আমরাই হয়ে যাই ফুল !
সরস্বতী
সরস্বতী একদিন আমাকে ভালবাসতে রাজি হয়েছিল—
সরস্বতী, তার গাল সামান্য ভাঙা, বাবা মাকে সে
ভয় পায় না আর, তারা ওকে খাঁচায় ভরে দিয়েছিল
আমি সরস্বতীকে বুঝিয়েছিলাম বাবাদের কথা
মেয়েদের সাথে তাদের কোনাকুনি ব্যবহার
মাংসাশী তারা, শ্রমের পরেই দাবী করে আহার !
সরস্বতী একদিন আমাকে ভালবাসতে রাজি হয়েছিল—
সরস্বতী, তার গাল সামান্য ভাঙা, বাবা মাকে সে
ভয় পায় না আর, তারা ওকে খাঁচায় ভরে দিয়েছিল
আমি সরস্বতীকে বুঝিয়েছিলাম বাবাদের কথা
মেয়েদের সাথে তাদের কোনাকুনি ব্যবহার
মাংসাশী তারা, শ্রমের পরেই দাবী করে আহার !
একদিন সরস্বতী এসে দাঁড়ায় আমার ঘরের দুয়ারে
না, সেদিন সরস্বতী আসেনি, এসেছিল এক বাঘ
চক্চকে হলুদ রোমের উপর ভয়ংকর কালো দাগ—
দুই চোখে আগুন যা দেখলে শিকারীও ভয় পায়,
দাঁড়াল সে কিন্তু ভিতরে ঢুকল না— ইশারায় বুঝিয়ে দিল
জঙ্গলের কন্দরে সে আমাকে ফিরে পেতে চায় !
সরস্বতীর জন্য আমার যতসব উত্তেজনা নিভে গেল,
ভয় হল, মনে হল হৃদপিণ্ড ফেটে বেরিয়ে যাবে
পাজামার মধ্যে দুমড়ে গেল পা— তার স্মৃতিহীন মুখ,
শরীরে সমুদ্রের স্রোত, ঢেউ, ফেনা— তার বুক
ঈশ্বরের দৃষ্টির মত সাংঘাতিক, অনিবার্য— কিন্তু
সবচেয়ে ভালবাসে যাকে, সে আজ তারই রক্ত খাবে ।
স্বপ্নে ও কল্পনায় আমি সরস্বতীকে চেয়েছি, চেয়েছি
তার থাবার আদর, আমার দুঃখের কথাগুলি তাকে
জানিয়েছিলাম বলেই সে আজ দুঃখ ভালবেসে
মেটাতে এসেছে পিপাসা
যে কোন ক্ষুধার সামনে সরস্বতী আমিই তোমার খাবার
সমুদ্র ও জঙ্গলের পাখি এসে ঢুকেছে আমার ঘরে
আমি যে অন্ধকারে থাকি, সরস্বতী তুমি তা চিনলে কেমন করে ?
খুন ঝরবে আজ, ঝরে পড়বে দূরতম নক্ষত্র ও ফুল
দুঃখকে জয় করতে যাব আমি ও সরস্বতী— এলোচুল
বেঁধে নাও— গরম নিঃশ্বাস, প্রসারিত হাত, হাতের বেষ্টন
মরা জ্যোৎস্নায় কাঁদে এক পাখি— এগোই আমি
নির্জনতা ভালবেসে
মরি— তাকে অনুসরণ করে চলে আসি গুহায়, জঙ্গলে—
ভূতগ্রস্ত আমি, সরস্বতীকে এভাবেই ভালবাসি;
যদি জীবন ফিরে আসে !
না, সেদিন সরস্বতী আসেনি, এসেছিল এক বাঘ
চক্চকে হলুদ রোমের উপর ভয়ংকর কালো দাগ—
দুই চোখে আগুন যা দেখলে শিকারীও ভয় পায়,
দাঁড়াল সে কিন্তু ভিতরে ঢুকল না— ইশারায় বুঝিয়ে দিল
জঙ্গলের কন্দরে সে আমাকে ফিরে পেতে চায় !
সরস্বতীর জন্য আমার যতসব উত্তেজনা নিভে গেল,
ভয় হল, মনে হল হৃদপিণ্ড ফেটে বেরিয়ে যাবে
পাজামার মধ্যে দুমড়ে গেল পা— তার স্মৃতিহীন মুখ,
শরীরে সমুদ্রের স্রোত, ঢেউ, ফেনা— তার বুক
ঈশ্বরের দৃষ্টির মত সাংঘাতিক, অনিবার্য— কিন্তু
সবচেয়ে ভালবাসে যাকে, সে আজ তারই রক্ত খাবে ।
স্বপ্নে ও কল্পনায় আমি সরস্বতীকে চেয়েছি, চেয়েছি
তার থাবার আদর, আমার দুঃখের কথাগুলি তাকে
জানিয়েছিলাম বলেই সে আজ দুঃখ ভালবেসে
মেটাতে এসেছে পিপাসা
যে কোন ক্ষুধার সামনে সরস্বতী আমিই তোমার খাবার
সমুদ্র ও জঙ্গলের পাখি এসে ঢুকেছে আমার ঘরে
আমি যে অন্ধকারে থাকি, সরস্বতী তুমি তা চিনলে কেমন করে ?
খুন ঝরবে আজ, ঝরে পড়বে দূরতম নক্ষত্র ও ফুল
দুঃখকে জয় করতে যাব আমি ও সরস্বতী— এলোচুল
বেঁধে নাও— গরম নিঃশ্বাস, প্রসারিত হাত, হাতের বেষ্টন
মরা জ্যোৎস্নায় কাঁদে এক পাখি— এগোই আমি
নির্জনতা ভালবেসে
মরি— তাকে অনুসরণ করে চলে আসি গুহায়, জঙ্গলে—
ভূতগ্রস্ত আমি, সরস্বতীকে এভাবেই ভালবাসি;
যদি জীবন ফিরে আসে !
No comments:
Post a Comment