হাংরি আন্দোলন রচনাসংগ্রহ

Thursday, 25 July 2019

অরুণেশ ঘোষ-এর কবিতা

স্বপ্ন শোকগাথা
...................
বয়স্কের হাড়ে
লোলচর্ম বৃদ্ধের ভেতরে
কালকের সেই সব দ্রোহী বালিকারা
আজকের এই সব ন্যাংটো স্রোতধারা
যে কুয়াশা ঢুকে গেছে
যে শীতের বাতাস গিয়ে কামড়ে ধরেছে
তারই সাথে যুদ্ধ করে -- করে করে --- ঝরে পড়ে লালা
তরল, আঠালো, তিক্ত -- তীব্র জ্বালা, তবু সে তো বহমান ধারা

যদি কোনও অর্থ হয় --- সেই অর্থ লুপ্ত-হওয়া হোগলা বন
ফের এও বলা যায় -- ছুটে গিয়ে পান করি মুগ্ধ মৃত্যুস্তন
আমরা তো জেনেও জানি না
বৃদ্ধ ও বালিকা
আগুনের স্ত্রী
ক্ষুধার নিবৃত্তি
তারই পৌরুষজাত শিখা
কে কার ঔরসজাত -- জেনে নিয়ে, ছিন্ন হয়ে একা !
সে আগুন নিভু-নিভু আজ
ফুঁ দিয়ে উসকে দ্যায় উষ্ণতর হাত
কোন এক অবোধ জঘন
মোম হয়ে গলে-গলে পোড়ে আদি নগ্নটুকু
আত্মা -- দুটি স্তন
মুঠো করে ধরতেই আঠালো উদ্বেগ
উচ্ছ্রিত করবে তারা, করবেই, জেদ আর হাঁটু পেতে বসে

মুখে পুরে নিয়ে হোক --- কিংবা বুকে ঘসে

দুষ্টক্ষতে ভরা
-----------------------
এখন দেবতা কবি দুষ্ট ক্ষতে ভরে
নিষ্কলুষ আত্মা তার -- ব্যাধি মৃত্যু জরা
তাকে ঘিরে নাচে --- যেমন টিভিতে
অর্ধনগ্ন রমণীরা নগ্ন হতে হতে
সবটা হয় না শুধু কবিকে বাঁচাতে
চিঠি সে লেখে না আর --- কী আছে চিঠিতে
খুলেও দেখবে না আর -- যদি তবু আসে
সাদা খাম, নীল খাম -- রক্তছোপ ছাপে

দেবতা বাজারে যায় --স্পর্শ পণ্যতায়
তৃতীয় চোখের পরে -- চতুর্থ জন্মায়
মাথার পিছনে তার -- দিব্যদৃষ্টি এক
ইচ্ছে নেই, তবু দেখে --- আততায়ীদের

দেবতা কলহ করে -- প্রৌঢ়া স্ত্রীর সাথে
বলে দেব -- তার পথ, সে পারে দেখাতে
পুরানো মানুষ-বন্ধু যদি আসে ঘরে
সস্নেহে আদর করে আপন ক্ষতকে

দেশে দুঃস্বপ্ন দেখে -- এক নীল পরী
তাকে নিয়ে চলে গেছে স্কুলে সরাসরি
পরীদের পাঠশালা -- ভুটকি দি'মণি
তাকে দেখে খুব হাসে --- বিছানায় হিসি
গেঁয়ো কবি শোনে এক মৃদু দৈববাণী
দেবতা না কচু তুই -- দাঁড়া আমি আসি...
এভাবেও আসে যদি দূরের মিতুল
আত্মাহুতি দিয়ে ভাবে হয়ে গেছে ভুল --- !

'আজ'
অহিংসা কি শুধু এক ক্লিশে শব্দ আজ
আরও কত হিংসা চাও, ঘাত-প্রতিঘাত
আরও কত নররক্ত, নারীকে ধর্ষণ
শেষ হলে সহসাই দু'হাতে দর্পণ
নিজের মুখের কাছে তুলে ধরো কিনা বলো, হায় রে রোবট ;
নিজেকে মানুষ বলে চিনবে কি চোখ
নাকি চিনবে না কোনোকালে - শুধু ভুল
বলবে না কী করব, আমি যে পুতুল
বিশ্বপুঁজির পুঁজ বয়ে আনে ফের দাসপ্রথা
আমাকে দিয়েই শুরু - উপায় ছিল না
এসব বলার আর হবে না সময়
রোবোটের হয় না যে কোনো বোধোদয়
হয় মানুষের, যারা হারিয়ে গিয়েছে
চণ্ডাশোক থেকে কবে জন্মাতে পেরেছে--
সম্রাট অশোক, তার ধারা স্তব্ধ ও চুপ
ভাঙাচোরা যান্ত্রিকতা, জঞ্জালের স্তুপ
তার-ই মধ্যে দাম্ভিকতা খুঁজবে আশ্রয়
তাই তার এত ক্রোধ, ভয়ে রক্তক্ষয়...








মলয় রায়চৌধুরী at 06:42
Share

No comments:

Post a Comment

‹
›
Home
View web version
Powered by Blogger.